সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি সাংবাদিকের উপর হামলা নয়, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর আঘাত চুলকাটি প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা বাগেরহাটে ১০ কেজি গাঁজা’সহ দুই মাদক কারবারি আটক চুলকাঠি পলাশ কিন্ডার গার্টেনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোঃ মহিবুল্লাহ শেখকে দেখতে চায় জনগণ বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা বিষয়ক আলোচনা সভা বাগেরহাটে জেলা সমবায় ভূমির উন্নয়ন ব্যাংকের ২৩তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
বনদস্যুর আতঙ্ক আর মাছশূন্য সাগরঃদুবলারচরে নীরব শুঁটকির মাচা,জেলেদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখ,জেলে-মহাজনরা নিরাপত্তা কবে পাবে

বনদস্যুর আতঙ্ক আর মাছশূন্য সাগরঃদুবলারচরে নীরব শুঁটকির মাচা,জেলেদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখ,জেলে-মহাজনরা নিরাপত্তা কবে পাবে

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
সুন্দরবনের বুক চিরে গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি আহরণ পল্লী দুবলারচর।যে দ্বীপে বছরের এই সময়টায় শুকনো মাছের গন্ধ আর ব্যস্ততায় মুখর থাকার কথা,সেখানে এখন কেবল খাঁখাঁ করা মাচা আর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখ। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলে বনদস্যুদের তাণ্ডব আর সাগরে মাছের সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি জেলেরা।
দুবলার আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো.মোতাসিম ফরাজী বলেন,গত দুই সপ্তাহ ধরে বনদস্যুরা একের পর এক জেলেকে অপহরণ করছে। মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করা হচ্ছে সাধারণ জেলেদের। এই আতঙ্কে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। আর যারা যাচ্ছেন,তারাও ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ট্রলারের জ্বালানি খরচই উঠছে না,বলতে বলতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর। এই দ্বীপের প্রতিটি মাচা যেন একেকটি গল্প।মাছ না থাকায় সেগুলো এখন শূন্য। একদিকে কাঙ্ক্ষিত মাছের অভাব, অন্যদিকে বনদস্যুদের ভয় দুই চাপে পড়ে জেলে ও মহাজনদের মুখে নেই হাসি।ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন প্রায় সবাই। কীভাবে সেই ঋণ শোধ হবে এই দুশ্চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড় বোঝা। দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান,মৌসুমের শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।দস্যুরা এখন বেপরোয়া। ট্রলার নিয়ে সাগরে বা সুন্দরবনের খাল-নদীতে গেলেই ধাওয়া করে ধরে নিয়ে যায়। আমরা চাই,র‍্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযান আরও জোরদার হোক,বললেন তিনি। এই সংকট শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।দুবলার ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় জানান, বনদস্যুদের অপহরণ বাণিজ্য এবং মাছের অভাবে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুন্দরবনের এই জেলে পল্লীতে প্রতিটি দিন এখন অনিশ্চিত।সাগরে নামা মানে জীবন বাজি রাখা,আর ঘরে বসে থাকা মানে ঋণের বোঝা বাড়ানো।বনদস্যু আর মাছ সংকটের এই দ্বৈত আঘাতে দুবলারচরের শুঁটকি পল্লী যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার প্রাণচাঞ্চল্য। এই মানুষগুলো শুধু মাছ ধরতে চায়,ভয়ে নয়, নিরাপত্তার সঙ্গে।প্রশ্ন হলো, সেই নিরাপত্তা তারা কবে পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers