বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
ফরিদপুর সদর উপজেলার অবহেলিত জনপদের নাম ডিক্রীরচর। দফায় দফায় পদ্মার ভাঙনে পুরো ইউনিয়নের সিংহভাগ চলে গেছে নদীগর্ভে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। তাদের কথা ভেবেই আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে ডিক্রীরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গীতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আবাস স্থান’। এখানে নির্মিত প্রত্যেকটি ঘর যেন ভূমি ও গৃহহীন মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা, নির্ভরতার স্থান। নতুন ঠিকানায় উঠেই এ মানুষগুলো নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেছেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার গৃহহীনদের জন্য জমিসহ ঘর। উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৬৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে উপকারভোগীরা বসবাস শুরু করছেন। এতে চরাঞ্চলের নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আসছে। তারা এখন নানান অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে চরাঞ্চলের নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।ডিক্রীরচর ইউনয়িনের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যারা ঘর পেয়েছেন তাদের আনন্দের শেষ নেই। অনেককেই দেখা গেছে, ঘরের আশপাশের ফাঁকা জমিতে শুরু করেছেন সবজি চাষ। লাগিয়েছেন নানা ফল-ফুলের গাছ। কেউ পালন করছেন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল-ভেড়া।নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত তোতা মিয়া বলেন, ‘নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছিলাম। ভিটা-বাড়ি হারিয়ে পথে পথে ঘুরেছি। অন্যের জমিতে থেকেছি। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাকা ঘর ও জমি দিয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’জমিসহ ঘর পাওয়া ছবি বেগম বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে এসে পাকা ঘরে থাকতে পারব স্বপ্নেও ভাবিনি। দোয়া করি প্রধানমন্ত্রীর জন্য। আমার মাথায় যত চুল আছে, ততদিন যেন বেঁচে থাকেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।’ডিক্রীরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, গৃহহীন এসব পরিবারের সদস্যরা পাকা ঘরে ঈদ উদযাপন করেছে। তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। নতুন ঠিকানায় গাছপালা লাগিয়েছে। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করছে। তাদের জন্য কিছু করতে পেরে আমরাও আনন্দিত। তবে এখনও আমার ইউনিয়নে অনেক অসহায় ও গৃহহীন পরিবার আছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরও ঘর-জমি দেওয়া হবে।
Leave a Reply