সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
মোল্লা আব্দুর রব বাগেরহাট
বাগেরহাটে এবার আফছানা আক্তার (০৮) নামের এক শিশু গৃহ পরিচারিকা অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন আর এই নির্মম ঘটনার অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাট সদর উপজেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেখা খাতুনের (৪০) বিরুদ্ধে।আফছানা আক্তার বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নের মৃত, মোঃ আমজাদ হোসেনের মেয়ে।বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল হক শিশু আফছানাকে উদ্ধার করে অসহায় শিশুটির সুন্দর জীবন পরিচালনার জন্য সরকারী শিশু পরিবারে রাখার ব্যবস্থা করেন।
নির্যাতনের শিকার আফছানা আক্তার জানান,আমার পিতা মারা যাওয়ার পর মা আমাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে।আমার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখেনা।পিতা মাতা না থাকায় সৎ ভাইয়ের সংসারে অনেক কষ্ট করে থাকতে হত।প্রায় দেড় বছর আগে আমি যখন দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ি তখন আমার এক ভাবি এক হাজার টাকা বেতনে এক বাড়িতে গৃহ কর্মীর কাজে দেয়।কাজে দেওয়ার পর থেকে আমি কখনো স্কুলে যেতে পারি নাই।ভাবী আমাকে কোন টাকা না দিয়ে প্রতি মাসের বেতনের ১হাজার টাকা সে নিয়ে যায়। কাজে দেওয়ার পর থেকেই বাসার মালিক রেখা আন্টি আমাকে দিয়ে বাসার সব ধরনের কাজ করাতো।এমনকি তার শরীরের ম্যাসেস করা শরীরের নিছের অঙ্গেও সেফ করে দিতে হত আমি কোন কাজে একটু ভ্থল করলেই মারধর করত ঠিকমত খাবার দিত না অনেক দিন রাতে না খাইয়ে রেখেছে। সে আমার সাথে ভাল ব্যবহারও করত না গালাগাল দিত গরম খুিন্ত দিয়ে গায়ে ছ্যাকা দিতো ।আফছানার শরীর,ঘাড়ে ,পায়ে আঘাতের একাধিক চিহ্ন এবং ডান হাতে আগুনের ছ্যাকার চিহ্ন রয়েছে।আমি কয়েকবার আন্টির স্বামী আনিস স্যার এর কাছে নালিশ করেছি সে আন্টিন কোনো বিচার করতে পারেনা।আফছানা আরো বলেন আমি আর কখনো আন্টিদের বাসায় যাব না। আমি এখন যেখানে আছি এখানে থাকতে চাই।তবে রেখা আন্টি ও তার স্বামী আমাদের মিথ্যা বলানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে আমি তাদের বিচার চাই।ওদেও ভয়ে আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাগেরহাট সদর উপজেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেখা খাতুনের সাথে বার বার চেষ্টা করে ও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নাই এবং তার ব্যবহত মোবাইল বন্দ পাওয়া যায়। তবে তার স্বামী কচুয়া উপজেলা ইিিজ্ঞিনিয়ার মো: আনিছ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,একটি মহল ঘটনাটি অতি রঞ্জিত করে আমাদের পাসাচ্ছে।তবে আমরা কাউকে হুমকী দেয়নি।উর্ধতন স্যারদের সাথে আমাদের স্বামী স্ত্রী উভয়ের কথা হয়েছে,তবে লেখা লেখি করে কিছুই হবেনা আমরা বাদীকে কিছু খরচ দিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে নেব।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল হক বলেন, স্থানীয়দের মাঝ থেকে শিশু আফছানার নির্যাতনের বিষয়টি শুনলে তাকে দ্রুত এনে সরকারী শিশু পরিবারে ভর্তি করি। শিশুটি ওখানে পড়াশুনার পাশাপাশি সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেখা খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে যদি দোষি প্রমানিত হয় প্রশাষন তার বিরুদ্ধে সঠিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে তিনি জানান।এবিষয়ে এলজি ডিই নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম মান বলেন,অমি অবগত নই তদন্ত পুর্বক শিশু নির্যাতন করলে রেখা খাতুনের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হবে।এদিকে বাগেরহাটে সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শিশু গৃহ পরিচারিকা নির্যাতনের ঘটনার তথ্যানুসন্ধান ও বিচারের দাবী জানিয়েছেন।রবিবার সকালে বাগেরহাট হিউম্যান রাইডস ডিফেন্ডার ফোরাম বাগেরহাট জেলা শাখার সদস্যরা বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল হক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মুজিবর রহমান সাথে স্বাক্ষাত করে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ও তারা কি পদক্ষেপ নিয়েছে এবিষয় কথা বলেন।এসময় এইচ আর ডিএফএর সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান,কমিটির সদস্য এ্যাড.লুনা সিদ্দিকী,মুখার্জী রবিন্দ্র নাথ,মমতাজ খানম,শামিমা সুলতানা সোহেলী,সাংবাদিক ইয়ামিন আলী,মোল্লা আব্দুর রব উপস্থিত ছিলেন।হিউম্যান রাইডস ডিফেন্ডার ফোরাম এর সদস্যবৃন্দ শিশু আফসানার উপর নির্যাতন ও শিশু দিয়ে গৃহ পরিচালিকার কাজ করনোর অপরাধে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেখা খাতুনের বিচারের দাবি জানান।অন্যথায় বৃহত্ত্র আন্দোলণের কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।
Leave a Reply