রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
চুলকাঠি ডেস্ক
নীলফামারী সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শিঙ্গিমারি মাজাডাঙ্গা গ্রামের মো. চান্দুর কন্যা।মোছা. রেজওয়ানা আক্তার সাথী (১৮)। বাড়ির পাশেরই মাজাডাঙ্গা তৈমুন্নেছা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারীতে মেয়েটি দাখিল পরীক্ষা দিতো।কিন্তু এসব এখন শুধুই অতীত। সংসার জীবনে প্রবেশ করে আশে-পাশে থাকা মানুষগুলোকে আপন করার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে যন্ত্রণাসিক্ত হৃদয়ে মেয়েটি পৃথিবী ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর ) দুপুর ১২টায় নিজের বাসায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সাথী আ’ত্ম’হ’ত্যা করে।গ্যাস ট্যাবলেট খেতে খেতেই সাথী লিখে গেছে ‘সু’ই’সা’ই’ড নোট’। তিন পৃষ্ঠার সেই চিরকুটে সে লিখে গেছে তার মনের সকল জমানো কষ্টের কথা, জানিয়ে গেছে স্বামীর ভালবাসা না পাবার বেদনা, বলে গেছে স্বামীর হাতে নিজের বাবা-মার অপমান-অপদস্থের কথা, প্রশ্ন করে গেছে, তাকে কষ্ট দিয়ে তার স্বামী কি পেল! অথচ, এত যন্ত্রণা নিয়েও চিরকুটে তার আকুতি ছিল, তার স্বামী যেন ভাল থাকে। সে চিরকুট পড়ে কেঁদেছে নীলফামারীর হাজারো মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সবেমাত্র কৈশোর পেরোনো মেয়েটির সাথে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী টেপুরডাঙ্গা গ্রামের সোনামুদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনের সাথে। জসিম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন সৈনিক এবং বাহিনীটির সদর দপ্তর ঢাকায় কর্মরত। বিয়ের পর বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। চাকরীর জন্য জসিম কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করায় শ্বশুড়বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকা হয়নি সাথীর। যখন স্বামী আসতো তখন তাকে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন গিয়ে নিয়ে আসতো। আবার যখন স্বামী কর্মক্ষেত্রে যেতো তখন সে বাবার বাড়িতে থাকতো। এভাবেই চলছিল তাদের মাত্র ১০ মাসের সংসার।সাথীর মা জয়নব বেগম জানায়, আমার মেয়েকে আমার জামাই (জসিম) পছন্দ করে বিয়ে করে। জামাই নৌবাহিনীর সৈনিক হওয়াতে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দেই। প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল মেয়ের সংসার। কিন্তু বিয়ের ছয়মাস যেতে না যেতেই আমার মেয়ের উপর চলতে থাকে অমানবিক মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের প্রসঙ্গ আসতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।এরপর চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসে আমার জামাই। এরপর আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু সেই ১৪ দিনের মধ্যে ২দিন আমার মেয়েকে তার ঘরে নেয়নি এবং বাকি ১২দিন আমার মেয়েকে মেঝেতে শুইয়ে সে (জামাই) বিছানায় ঘুমিয়েছে।
জয়নব বলেন, আমার মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে বেশীরভাগ সময় কথা বলতো আমার জামাই। কিন্তু আমি এমন কোন দিন দেখিনি যেদিন আমার মেয়ে মোবাইলে কথা বলা শেষে হাউমাউ করে কান্না করেনি। আমি আমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে আমার মেয়ে আমাকে বলতো, তোমাদের জামাই আমাকে পেয়ে সুখী নয়। তার চেহারা অনেক সুন্দর, আমার রুপ নেই। তার পাশে স্ত্রী হিসেবে দাঁড়াবার কোন যোগ্যতা নেই আমার। তোমার জামাই আমাকে বারবার বলে, সে যেন আমাকে আর না দেখে।
Leave a Reply