রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি’র নেতার হামলায় মা ও ছেলে মারাত্মক জখম বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা খেলার সরঞ্জাম বিতরণ রাজনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান পলাশের মোটরসাইকেল গণসংযোগ রামপালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের জোবায়ের, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা রামপালে জমি দখল চেষ্টা ও মামলা করে হায়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থার মতবিনিময় সভাকে ঘিরে জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুর রহমানের ব্যাপক প্রস্তুতি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি
বাগেরহাটের রাস্তার পাশে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে খুপরি ঘরে বসবাস করা সেই “মুক্তিযোদ্ধা” রতন কুমার বিশ্বাস মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন প্রকল্পের আওতায় ঘর পেলেন

বাগেরহাটের রাস্তার পাশে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে খুপরি ঘরে বসবাস করা সেই “মুক্তিযোদ্ধা” রতন কুমার বিশ্বাস মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন প্রকল্পের আওতায় ঘর পেলেন

মোল্লা আব্দুর রব বাগেরহাট
বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেলেন বাগেরহাট শহরের কাজী বাড়ীর রাস্তার পাশে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে খুপরি ঘরে বসবাস করা সেই “মুক্তিযোদ্ধা” রতন কুমার বিশ্বাস।বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে সদর উপজেলা ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের রণভুমি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তার জন্য এ ঘর বরাদ্ধ করা হয়।মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতর্ৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান প্রকল্পের আওতায় এ ঘর পেয়ে অনেক খুশি রতন কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী মনিরা বেগম।এছাড়া রতন কুমার বিশ্বাসকে নতুন ঘরের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি খাট, তোষক,বিছানা,বালিস,চুলা,হাড়ি-পাতিলসহ সুপেয় পানির জন্য একটি টিউবয়েল ও বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।রতন কুমার বিশ্বাসকে ঘর হস্তান্তরের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন জেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার নাসির উদ্দিন,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম,সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের একান্ত সচিব এইচ এম শাহিন, ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,বাগেরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: ফারুক তালুকদার, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: তৈহিদুর রহমান জনি প্রমুখ।এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ রতন কুমার বিশ্বাসকে নিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় সংবাদটি নজরে আসে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় এর।তিনি তাৎক্ষনিত ভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের রতন কুমার বিশ্বাস এর খোঁজ খবর নিতে বলেন।সে সময় খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন,শেখ তন্ময়ের একান্ত সচিব এইচএম শাহিন,সহকারী সচিব চয়ন আহমেদ, বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহাদ উদ্দিন হায়দার,জেলা যুবলীগ নেতা মীর জায়েসী আশরাফি জেমসসহ যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী রতন বিশ্বাসকে দেখতে যান।এসময় তারা রতন বিশ্বাসকে নগদ টাকা ও কম্বল দিয়ে সহায়তা করেন এবং তাকে একটি ঘর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন এপ্রতিনিধিকে বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন কোন মানুষ ভূমিহিন ও গৃহহীন থাকবে না।এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ রতন কুমার বিশ্বাসকে ঘর উপহার দিয়েছি। আমাদের এমপি জননেতা শেখ তন্ময়ের এলাকায় একটি মানুষও বস্ত্র ও গৃহহীন অবস্থায় থাকবে না।
বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন বলেন,আমি সবার আগে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে,তিনি মুজিবর্ষে দুস্থ,অসহায় ভুমিহীন যারা আছেন ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের এমপি শেখ তন্ময়কে তিনি সকল দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে আছেন।বৃদ্ধ রতন কুমার বিশ্বাস বলেন,আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা।কিন্তু স্বীকৃতি পাইনি।আবেদন করেছি মন্ত্রণালয়ে কি হবে জানিনা। বাবার যত সম্পদ ছিল মানুষে জোর পূর্বক জাল দলিল করে দখল করে নিয়েছেন। এখন আমার দখলে কোন জমি নেই। দশ বছরের বেশি সময় মেগনিতলা রাস্তার পাশে একটি ঝুপড়ির মধ্যে থাকতাম।বিভিন্ন সময় অনেকেই অনেক কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।কিন্তু কিছুই পাইনি। আজকে প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় একটি পাকা ঘর পেয়েছি। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ যাদের চেষ্টায় আমাদের এই ঘর প্রদান করা হল তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি আমি ধন্যবাদ জানাই সংবাদ কর্মিদের সুন্দর একটি সংবাদ প্রকাশ করে আমার মত একজন অসহায় মুক্তিযোদ্ধাকে সকলের সামনে তুলে ধরার জন্য।
আর মরার আগ পর্যন্ত পাকা ঘরে থাকতে পারব এই ভেবেই খুব আনন্দ লাগছে মনে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে মারতে চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই বৃদ্ধ।রতন কুমারের সহধর্মিনী অসুস্থ্য মনিরা বেগম বলেন, পৃথিবীতে কেউ নেই আমার। ১৫ বছর আগে তার (রতন কুমার বিশ্বাস) সাথে এক সাথে থাকা শুরু করি। কিছুদিন বেড়িবাঁধে থেকেছি। পরে দশ বছর ধরে খেয়ে না খেয়ে মেগনিতলার ঝুপড়িতে আছি। আজ পাকা ঘর পেলাম। জীবনে পাকা ঘরে থাকব তা কখনও ভাবতে পারিনি। আমরা খুব খুশি হয়েছি।বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঘোষনা দিয়েছেন ভুমিহীন ও গৃহহীন কোন পরিবার থাকবে না।এরই মধ্যে আমরা রতন কুমার বিশ্বাস এর খবর পাই।আমরা সরোজমিনে গিয়ে দেখেছি তিনি রাস্তার পাশে একটি খুপরি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন।আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘর তাকে উপহার দিলাম।এছাড়া তিনি নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দাবী করেন,এই বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলেছি।ইতি মধ্যেই আমরা রতন বিশ্বাসকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যাচাই-বাছাই এর প্রতিবেদন মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি।পরবর্তিতে সে বিষয়ে মন্ত্রনালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।এছাড়া প্রভাবশালী কতৃক তার পৈত্রিক সম্পত্তি জায়গা-জমি দখলের যে বিষয়টি তিনি আমাদের জানিয়েছেন সেটিও গুরুত্বে সাথে দেখা হচ্ছে।প্রাথমিক ভাবে আমরা যেটা জানতে পেরেছি,তার পৈত্রিক অনেক সম্পত্তি বিভিন্ন জন দলিল করে নিয়েছেন এবং সর্বশেষ রেকর্ডে বিভিন্ন ব্যাক্তির নামে রেকর্ড রয়েছে।সেই দলিল সঠিক না বেঠিক সেটি আদালতে প্রমান সাপেখ্য বিষয়।যার জন্য সে বিষয়টি নিয়ে আমরা তার সাথে কথা বলবো এবং তাকে আইনগত সহয়তা প্রদান করা হবে। আর বয়স বেশি হওয়ায় শারীরিকভাবেও একটু অসুস্থ্য তারা দুজন। এজন্য সহজে পানির সংস্থানের জন্য তাদের ঘরের পাশে একটি ডিবটিউবওয়েল ও বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আশা করি বাকি দিনগুলো এই দম্পতি শান্তিতে থাকতে পারবেন
উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃর্তক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান “আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে”র আওতায় বাগেরহাট জেলায় ৪৩৩টি ঘর বরাদ্ধ করা হয়েছে।এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৫৪টি,কচুয়া ৩৬টি,রামপালে ১০টি,মোংলায় ৫০টি,মোল্লাহাটে ৩৫টি,চিতলমারীতে ১৭টি,ফকিরহাটে ৩০টি,মোরেলগঞ্জে ৬টি ও শরণখোলা উপজেলায় ১০০টি ঘর বরাদ্ধ করা হয়েছে।এর মধ্যে ৩৩৮টি ঘর ইতিমধ্যেই অসহায় দুস্থ ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ৯৭টি ঘরের নির্মান কাজ প্রায় শেষের দিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers