সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি সাংবাদিকের উপর হামলা নয়, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর আঘাত চুলকাটি প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা বাগেরহাটে ১০ কেজি গাঁজা’সহ দুই মাদক কারবারি আটক চুলকাঠি পলাশ কিন্ডার গার্টেনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোঃ মহিবুল্লাহ শেখকে দেখতে চায় জনগণ বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা বিষয়ক আলোচনা সভা বাগেরহাটে জেলা সমবায় ভূমির উন্নয়ন ব্যাংকের ২৩তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
পানির অভাবে  বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি, চরম দুশ্চিন্তায় বাগেরহাট  ও রামপালের কৃষকরা

পানির অভাবে  বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি, চরম দুশ্চিন্তায় বাগেরহাট  ও রামপালের কৃষকরা

তরিকুল মোল্লা, নিজস্ব প্রতিনিধ
বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় রামপাল ও বাগেরহাট সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ধানক্ষেত জ্বলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। এতে ধান উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। উপকূলীয় এ অঞ্চলের কৃষকদের নীরব কান্না যেন দেখার কেউ নেই।কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা খরচ করে তারা বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচ দিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, রামপালের ফয়লা সুইচগেট বন্ধ রেখে দেবিপুর এলাকায় ব্রিজ নির্মাণকাজ চলায় রামপাল ও বাগেরহাট সদরের বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেচনির্ভর বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে ধানক্ষেতের মাটি শক্ত হয়ে ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও ধানের গাছ রোদে পুড়ে লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। অনেক জমিতে সেচের কোনো ব্যবস্থা নেই। জমিতে পানি না থাকায় ধানের শীষ গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন।
সুগন্ধি গ্রামের কৃষক আঃ হাকিম মল্লিক বলেন, গত বছর তিনি চার লাখ টাকার ধান বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু এবার পাঁচ বিঘা জমির বোরো ধান পানির অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, খালে পানি না থাকায় সেচ দিতে পারছেন না। এমনকি ঘেরে থাকা মাছও বাঁচবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। পানির অভাবে ঘেরের পানিও শুকিয়ে যাচ্ছে।
ক্ষুদ্রচাকশ্রী এলাকার কৃষক আকরাম সরদার বলেন, বড় আশা নিয়ে জমিতে ধানের আবাদ করলেও পানি সংকটে তিনি ও তার বর্গাচাষি বিপাকে পড়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে দ্রুত সুইচগেট খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক কৃষক ফিরোজ শেখ বলেন, অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা স্বর্ণ বন্ধক রেখে চাষাবাদ করেছেন। পানি না পেলে ধানের সঙ্গে কৃষকের স্বপ্নও শেষ হয়ে যাবে। দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌসি জানান, ভুক্তভোগী কৃষকরা আমাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপ-পরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন জানান, বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সভায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে মোবাইলে  কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers