সম্পাদক
তামাম দুনিয়ার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত প্রতিটা রাজধানী, প্রতিটা শহর, প্রতিটা রাজপথ যেখানে মানুষের কোলাহল রাত পেরিয়ে গেলেও থামানো যেতো না, স্রোতের মত মানুষ ছুটে চলত নিজ গন্তব্যে, ছিল বাধাহীন বিচরণ। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! সবকিছু থমকে গেছে জীবনযাত্রা। অচেনা এক পৃথিবী অচেনা এই পরিবেশ, আপনজন আপনজনকে এড়িয়ে চলছে বাবার লাশ নিচ্ছে না সন্তান। ভাইয়ের পাশে নেই ভাই ফোন দিলেও আসছে না লাশের পাশে হৃদয় বিদারক এই দৃশ্য আর কতদিন! বড় কষ্ট হচ্ছে সমাজবদ্ধ মানব সম্প্রদায়ের। এই বন্দিদশা আর কতদিন নেই কোন সীমারেখা। পৃথিবীর সাজানো গোছানো সব কিছু যেন তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবী অনুমান করতে পারছে না কোথায় যাচ্ছে। এটা কোন যুদ্ধ নয়! এটা কোন বিশ্বযুদ্ধ নয়! এটা এক অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই। এই লড়াইয়ে করোনাকে ঘায়েল করার কোন শক্তি মানুষের কাছে নেই। এই অদৃশ্য ভয়ঙ্কর শক্তি যাকে আমরা করোনা বা কোভিড-১৯ নামে আখ্যা দিয়ে থাকি। করোনা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়ঙ্কর সর্বনাশ ডেকে আনবে বলে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ।এখনও নয় ক্ষতির হিসাব মিলানোর সময় এখনও আসেনি। অপেক্ষা করতে হবে বহুদিন। জিরো পজিশনে আসার আগ পর্যন্ত কোন দেশই নিরাপদ নয়। যেহেতু ভাইরাসটি খুবই রহস্যময়। একাধিক রূপে মানব দেহে ঢুকে পড়ছে। করোনা শক্তিশালী প্রতিটা সমাজকে ভীত নড়বড়ে করে দিয়েছে।বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ ২০২০ থেকে করোনা আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে আমাদের প্রবাসী ভাইদের মাধ্যমে আমরা আক্রান্ত হয়েছি। প্রথম দিকে আক্রান্তের অবস্থা অনেকটা ধীর গতি থাকলেও এখন এর তেজীভাবে আমরা অনেকটা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। এই আক্রান্তের শেষ সীমানা কোথায় এটা বলা মুশকিল। এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা আল্লাহর দয়া ছাড়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। গত ১৮.০৪.২০২০ইং তারিখে ৮৬ মিনিটের সংসদ অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘরে থাকতে বলেছেন এবং আল্লাহকে ডাকতে বলেছেন। এই মুহূর্তে এর চেয়ে আর খাঁটি কথা কিছুই হতে পারে না। আমরা ঘরে বসে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব। আল্লাহর কাছে আত্মসমার্পন করলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্তরের জনগণের জন্য এক লক্ষকোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এই মুহূর্তে এটা খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ।
Leave a Reply