মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
মোল্লা আব্দুর রব, বাগেরহাট ব্যুরো অফিস
বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে নদ-নদীর পানির উচ্চতা দুই থেকে আড়াইফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাটের শরণখোলার ভোলা,বলেশ্বর, মোরেলগঞ্জের পানগুছি, ভৈরব নদীর পাশে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা সহস্রাধিক পরিবার পানিতে প্লাবিত হয়।এছাড়াও শরণখোলার বগীগ্রামস্থ ঝুকিপূর্ণ দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এলাকায় পানি ছিল ছুই ছুই।পানি বৃদ্ধি পেলে জনজীবনে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।অন্যদিকে পানগুছি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেক্স চত্বর ও উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্বরে এক থেকে দেড় ফুট পানি উঠেছে।বিপাকে পড়েছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়,দুপুর ১২টার দিকে পূর্ণ জোয়ারে দড়াটানা নদীর পানির লেভেল ছিল ২ দশমিক ৬০ মিটার। এই নদীর স্বাভাবিক সীমা হচ্ছে ২ দশমিক ৪৪ মিটার।অর্থাৎ নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।যার ফলে জেলার বেশিরভাগ এলাকায়
বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়।তবে ভাটা হওয়ার সাথে সাথে কিছু কিছু এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে।বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি নদীর তীরে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা গ্রাম সানকিভাঙ্গা ও বদনী ভাঙ্গা গ্রামের মিলন শেখ,জাকারিয়া হোসেন,মুক্তা বেগম,সালেহা বেগমসহ কয়েকজন বলেন,সকালের জোয়ারে গতকালের থেকে দুই থেকে তিনফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।আমাদের অনেকের বাড়ি-ঘরে পানি উঠে গেছে।নদীর পানি ঠিকমত না টানার কারণে আমাদের বাড়ির পানিও টানছে না।পানি যদি এর থেকে বেশি হয় তাহলে বাড়িতে বসবাসের পরিস্থিতি থাকবে না।এছাড়াও আমাদের বাড়ির আসে পাশে কোন আশ্রয় কেন্দ্রও নাই।শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বগী, ভোলা নদীর তীরবর্তী শরণখোলার চরগ্রাম, পানিরঘাট, সোনাতলা এলাকায় অন্তত ৮শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।জোয়ারের পানি প্রবেশ করে আর না নামায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বাড়ি থেকে চলে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না পরিবারগুলোর।
বাগেরহাটের ভৈরব নদীর পাশে মাঝিডাঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রসহ আশপাশের শতাধিক পরিবারের বাড়ি ঘরে পানি উঠে গেছে।মাঝিডাঙ্গা এলাকার সোহরাব হোসেন রতন বলেন,ভৈরব নদীর তীরে আমাদের এই গ্রাম।দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোন বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড়জলচ্ছাসে আমাদের ডুবতে হয় পানিতে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন,ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পূর্ণ জোয়ারে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে।আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেষ দিয়েছি।বাগেরহাটের নবাগত জেলা প্রশাসক মো: আজিজুর রহমান বলেন,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় আমরা সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। ঝুকিপূর্ণ উপজেলা গুলোতে শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।আশ্রয়ণকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।সাধারণ মানুষের জন্য জেলার ৩৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার ৭৫টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ২৫ হাজার টাকা ও ৩টি পৌরসভায় ২ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় শিশু খাদ্যের জন্য ১ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
Leave a Reply