বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় জেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার পানির অভাবে  বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি, চরম দুশ্চিন্তায় বাগেরহাট  ও রামপালের কৃষকরা বাগেরহাটে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ভট্ট আবাসন কেন্দ্রে এমপি মনজুরুল হক রাহাদ বৃটেনের কার্ডিফের ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্টে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাযা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান, চুলকাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন মিথ্যা অভিযোগ ও অপ-প্রচারের প্রতিবাদে বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন মোংলা বন্দর পরিদর্শন  সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী প্রেসক্লাব রামপালের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম-কে অভ্যর্থনা নারী আসনে এমপি হতে চান- মিসেস মনিরা ইসলাম মানবিক সেবক শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী (এমপি) হওয়ায় চুলকাটি প্রেসক্লাব শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
সফল ও জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম’র দায়িত্ব ফিরে পেতে স্থানীয়দের দাবী

সফল ও জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম’র দায়িত্ব ফিরে পেতে স্থানীয়দের দাবী

খুলনা প্রতিনিধি

প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে, কিন্তু স্বপ্নের পথে পা বাড়ালেই একের পর এক আসতে থাকে প্রতিবন্ধকতা। যে ব্যক্তি এসব প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাবেন তিনিই হবেন সফল। তাই এমনই একজন ভাল মনের মানুষ ও সমাজ সেবক ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার। যিনি অনেক বাধা ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে পিছনের সকল বাধা অতিক্রম করে ৫নং সুন্দরবন (ইউপি চেয়ারম্যান) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্ত কি নির্মম পরিহাস, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ৩ বছর ৮ দিন যেতে না যেতেই কু-চক্রি মহলের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে ২০২৪ সালে ৯ নভেম্বর তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ইউনিয়ন পরিষদের জনসেবা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরাফাত হোসেনকে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করেন। কিন্ত এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষ সেই সেবার মান থেকে আজ পিছিয়ে পরেছে। তাই সকল সড়যন্ত্রের জাল থেকে মুক্ত করে চেয়ারম্যানের দায়ীত্বে পুর্ন বহালের দাবী জানিয়েছে এলাকার অসহায় গরিব ও সচেতন মহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। ইতোমধ্যে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার তার দায়িত্ব ফিরে পেতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।

সর্বোপরি বর্তমান সরকারের নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন রয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তাঁর পরিশ্রম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা আর প্রতিভার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে ইউপি উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিক ও সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছিলেন তিনি। তার নির্বাচিত সন থেকে সকল অর্থ বছরের সরকারের বরাদ্ধকৃত সকল কিছুই সঠিক নিয়োমে খরচ করছিলেন তিনি।

এলাকার সাধারণ মানুষেরা জানান, একরাম চেয়ারম্যান একজন সাদা মনের, উদার মানসিকতার ও দানশীল মানুষ। আমরা নেতা বা চেয়ারম্যান বুঝিনা। আমরা বুঝি ইকরাম ভাই একজন ভাল মানুষ এবং একজন কর্মঠ ব্যক্তি। তিনি চেয়ারম্যানের স্বপদে থাকলে আমাদের এলাকার তথা ইউনিয়নের উন্নয়ন হবে। বিশেষ করে ৫নং সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদে বসার আগে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই মাদকের ও জুয়ার আখরা বসতো। আমাদের রাতের বেলা চলতে বেগ পেতে হতো, মা-বোনদের চলাফেরা করতে সমস্যা হতো, কিন্ত তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এসব অপরাধ কমে গেছে। আমাদের দু: দুর্দশায় তাঁকে সহজেই পাশে পাওয়া যেতো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি গত ২০২১ সালে ইউনিয়র পরিষদ নির্বাচনে মোংলা উপজেলা শোষিত বঞ্চিত মানুষ ও প্রতিবাদি ছাত্র জনতার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ইকরাম ইজারাদার নির্বাচিত হন।

তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়মিত অফিস করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ অতি দক্ষতার সাথে সফলভাবে করেছেন যা অব্যাহত ছিল। তিনি এমন ভাবে দায়ীত্ব পালন করছিলেন যাতে পরবর্তী নির্বাচনে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চেয়ে নিতে না হয়। এমন ভাবে কার্যক্রম করছিলেন তার জনপ্রিয়তায়ই তাকে নির্বাচিত করবে এলাকার জনগন। তাই চেয়ারম্যান ইকরামের সততা ও কর্মদক্ষতার সাথে ইউনিয়নবাসীকে সেবা দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন এমনটাই প্রত্যাশা ইউনিয়নবাসীসহ সকলের।

কিন্ত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা পতনের পর গত বছরের ৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের এক আদেশে তার ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। তবে তার স্থানে প্রশাসক নিয়োগ হলেও জুলাই-আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ইকরাম চেয়ারম্যান আওয়ামী সরকারের শোষকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ছাত্র জনতার পাশে ছিলেন এবং বর্তমান সরকারের সকল কর্মকান্ডে জনগনকে সম্পৃক্ত করার প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট ইকরাম ইজারাদারকে স্বপদে বহাল করার জোর দাবী জানান এলাকাবাসী। মোংলা উপজেলার ছাত্র ও গনমানুষের বন্ধু ইকরাম ইজারাদারকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়ীত্বের স্বপদে বহাল করলে মোংলা বাসি সরকারের নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের অনেক কর্মকর্তা বলেন, মোংলা উপজেলায় ৬টি ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে সবচেয়ে ভাল চেয়ারম্যান ছিল সুন্দরবন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার। কোন ষড়যন্ত্রের জালে আটকে গেলো বা কুট কৌশলের ফাঁদে পরে এমনটা হলো তা আমরা কখনই প্রত্যাশা করিনী। অন্য সব চেয়ারম্যানদের ছোট খাটো ভুলত্রæটি থাকলেও সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যক্রম খুবই ভাল ছিল এবং একজন ভাল মনের মানুষ বলে আমরা জানি।

সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করে মানুষকে সেবা দিচ্ছি। আমার নামে কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই। তারপরও অদৃশ্য কারণে ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি আমার দায়িত্ব ফিরে পেতে আবেদন করেছি। আবেদনের পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আতাউর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় মানুষের সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিন মানুষ এসে জন্মনিবন্ধন ছাড়াও নাগরিকত্ব সনদ, প্রত্যয়নপত্র, ওয়ারিশ সনদ নিতে এসে চেয়ারম্যানকে খোঁজ করছে। ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা চেয়ারম্যানের জন্য পাগল প্রায়।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers