শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ বলে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়া বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদারের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সোমবার (২২ জানুয়ারী) রাতে মোংলা থানায় এ মামলা দায়ের করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মামলার বাদী মোংলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোংলা-রামপালের (বাগেরহাট ৩) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে এক নির্বাচনী সভায় ‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ বলে অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২এর অনুচ্ছেদ ৭৭এর বিধান এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮এর বিধি ১১(ক) লঙ্ঘন করেছেন। তাই এ সংক্রান্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বিষয়টির সত্যতা পেয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সোমবার রাতে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদাণকারী ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদারের বিরুদ্ধে গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২এর অনুচ্ছেদ ৭৩এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮এর বিধি ১৮এর লঙ্ঘন অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচারণ বিধিমালার ১১(ক) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য প্রদাণ বা কোন ধরণের তিক্ত (উস্কানিমূলক বা মানহানিকর) বক্তব্য, লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিকে আঘাত লাগে এমন কোন বক্তব্য প্রদাণ করতে পারবেন না। এই অবস্থায় উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও নৌকা প্রতীকের ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাঁর ইউনিয়নে গত ৩০ ডিসেম্বর গত মুসল্লীপাড়ায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইদ্রিস আলী ইজারদারের নির্বাচনী এক সভায় বক্তব্যে বলেন, ‘নারী নেতৃত্ব হারাম, আমরা গজবের ভিতরে নিমজ্জিত আছি। এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। জনমনে কোন স্বস্তি নেই, শান্তি নেই, তার কারণ- নারী নেতৃত্ব হারাম। নারী নেতৃত্বের অধীনে আমরা এখানে রয়েছি। আমাদের ভোটটা আমরা হাবিবুন নাহারকে (নৌকার মার্কার প্রার্থী) দুইবার ভোট দিয়ে আমরা নারী নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করছি। তাই আমাদের এখানে কোনো সুখ-শান্তি অবস্থান করে না। যেটা সত্য, সেই কথা আমি এখানে আপনাদের কাছে বলে গেলাম। উনি একজন নারী, উনি রাজনীতি আর সমাজনীতির বোঝেন কি? কিছুই বোঝেন না।’ এরপর তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ইস্যুতে সংসদ নির্বাচনের পরে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবীতে মোংলায় কয়েক দফা বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম জানান, সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদারের বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশে সোমবার রাতে মোংলা থানায় এ মামলা দায়ের করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এখন ইউপি চেয়াম্যানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
Leave a Reply