শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় অন্যের বতস বাড়ি জোরপূর্বক দখল, বাড়ির মালিক ও গৃহবধু এক নারীকে মারধর, ভাংচুর, লুটপাট করার অভিযোগে মোংলার হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কামাল সহ ৩ জনকে চিহ্ণিত করে ২০ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩জনকে আটকের পর মঙ্গলবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার রাতে পৌর শহরের সিগনাল টাওয়ার এলাকা থেকে আটক করে মামলা দায়ের শেষে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। তবে দখলকৃত বাড়িটি পুলিশের সহায়তায় ৪ ঘন্টা পর হিমেলের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার বাদী হিমেল জানায়, মোংলা পোর্ট পৌর শহরের সিগনাল টাওয়ার ৯নম্বর ওয়ার্ড আঃ মজিদ সড়ক এলাকায় মোঃ ইউসুফ আলীর ছেলে মোঃ হিমেল তার পরিবারের লোকজন নিয়ে শেহলাবুনিয়া মৌজার এস.এ ২ (২/২) এবং বি.আর.এস ৭৪৩ খতিয়ানে, এস.এ ২১৯ বি.আর.এস ২৮১৮ দাগে ২১৭৪ একর জমির মধ্যে থেকে ১৩ শতক জমিতে ঘর বাড়ী নির্মান করে শান্তি পূর্ণ ভাবে দীর্ঘ বছর থেকেই বসবাস করছিলেন। কিন্ত ওই একই এলাকায় নতুন তৈরী হওয়ায় মোমিও কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কামালের সাথে এর কিছু অংশ জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বহু দিন ধরে দন্ধ চলে আসছিলো হিমেল পরিবার। এ নিয়ে প্রথমে থানা ও বাগেরহাট আদালতে মামলাও চলমান।
সোমবার রাতে হঠাৎ ডাঃ কামাল ও তার ছেলে কাদের নাঈম সহ অপরিচিত প্রায় ১৮/২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হিমেলের বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে হিমেলকে উদ্দোশ্যে গালাগালী করতে থাকে তারা। ঘর থেকে বের হয়ে এর প্রতিবাদ করায় হিমেলকে ডাঃ কামালের সাথে থাকা লোকজন এলোপাথারী ভাবে মারতে থাকে এবং ঘরের মালামাল ও আসবাব পত্র ভাংচুর করে হিমেল ও তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট চালিয়ে জোর পুর্বক তাদের দখলে নেয় বলে থানায় দেয়া মামলায় উল্লেখ করে। এসময় হিমেলের স্ত্রী মাসুদা আক্তার নিশি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁতে গেলে তাকেও মেরে রক্তাক্ত জখম করে ডাঃ কামাল, কাদের নাইম সহ তার লোকজন। পরে তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এসে গুরুতর অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার ওসি একদল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং ওই সকল দখলদাররা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর পরই সোমবার রাতে ভুক্তভোগী হিমেল বাদি হয়ে মোংলা হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কামাল হোসেন, তার ছেলে কাদের নাইম, স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে চিহ্ণিত করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামী করে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেণ। এ মামরা সুত্রধরে এদিন গভির রাতে ডাঃ কামাল, ছেলে কাদের নাইম ও জেসমিন আক্তার নামের এ ৩ জনকে দখলে নেয়া ওই বাড়ি থেকে তাদের আটক করে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) দুপুর ৩টার দিকে আটককৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, গোপনে সুত্রে জানতে পারি রাতের অন্ধকারে জোর পুর্বক একটি বাড়ি দখলে নিয়েছে কয়েক ব্যাক্তি, এবং মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। এ ঘটনা নিয়ে রাতে একটি মামলা হয় এবং সেই মামলার ৩ আসামীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানায় থানার এ কর্মকর্তা।
Leave a Reply