সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
পি কে অলোক,ফকিরহাট।
বাগেরহাটের ফকিরহাটের লখপুর ইউনিয়নের ছোট খাজুরায় গোপের নদীর জোয়ারের পানির প্রচান্ড চাপে পানি উন্নয়ন রক্ষা ভেড়িবাঁধ এখন ভাংগনের কবলে পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের প্রচান্ড বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির চাপে রাক্ষা ভেড়িবাঁধ এখন নড়-বড়ে হয়ে তা নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অতিদ্রুত ভেড়িবাঁধটি সংস্কার করা না হলে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ২/৩টি গ্রাম পানিতে নিমর্জিত হয়ে গ্রামবাসির ব্যপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, খুলনার রুপসা ভৈরব নদীর একটি বড় শাখা নদী জাবুসা বাজারের উপর দিয়ে ছোট খাজুরা গ্রাম হয়ে ১০ গেট ও ৫ গেটের মধ্যদিয়ে পূর্বদিকে লখপুর পিলজংগ বাহিরদিয়া, ফকিরহাট সদর, এবং দক্ষিনে বেতাগা শুভদিয়া ও গোরম্ভা ইউনিয়নে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিবছর প্রচান্ড বৃষ্টি আর উজানের জোয়ারের পানির প্রচান্ড চাপে উপকুলিয় বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি হতো। এমতাবস্থায় বাগেরহাট পানি উন্নয়ন র্বোড প্রায় ১০কিলোমিটার নদীর পাশের্^ ভেড়িবাধ নির্মাণ করেন। ভেড়িবাঁধ নির্মাণ করার পর সেই ভেড়িবাঁধ দিয়ে স্থানীয় জনসাধারন যাহাতে চলাচল করতে পারেন, সেজন্য দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয় কৃর্তক ইটের সলিং নির্মাণ করেন। আর এই ইটের সলিং নির্মাণ করার পর হাজার হাজার জনগন উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, গত কয়েক দিনের প্রচান্ড বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির প্রচান্ড চাপের কারনে সেই ভেড়িবাঁধে ফাটল ধরার পাশা-পাশি তা ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর শুনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ সহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ আহম্মদ আলী ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ জাহিদ ইকবাল সহ একাধিক ব্যক্ত সাথে আলাপ করা হলে তাঁরা জানান, প্রচান্ড বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির তোড়ে ভেড়িবাঁধের অর্ধেক অংশ নদীর মধ্যে চলে গেছে। বাকি যে অর্ধেক অংশ রয়েছে তাও যে কোন মুহুত্বে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। তারা আরো বলেন, ছোট খাজুরা পাকা রাস্তার তেমাথা মোড় হতে দক্ষিন পাশের্^ প্রায় সাড়ে ৩শত ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল ও ভাংগনের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানির চাপ ধারন করার মত ক্ষমতা এখন আর ভেড়িবাঁধের নেই। তাই উপরের পানি চাপ দিলে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। আর ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে ছোট খাজুরা ও লখপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে জনগনের ব্যপক ক্ষতি হতে পারে।
এ ব্যাপারে লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম,ডি সেলিম রেজা’র সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিজে বেশ কয়েকদিন ধরে ঐ স্থানে গিয়েছি। জোয়ারের পানির যে প্রচান্ড চাপ তাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণকৃত ভেড়িবাঁধ টিকার কথা নয়। পানি উন্নয়ন র্বোড যদি দ্রুততার সাথে ভেড়িবাঁধ মেরামত না করেন, তাহলে কয়েক হাজার গ্রামবাসির ব্যপক ক্ষতি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##
Leave a Reply