শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
মোল্লা আব্দুর রব,অফিস বাগেরহাট
দালাল চক্রে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। অনিয়ম আর দালালদের দৌরাত্মে ভোগন্তির শেষ নেই সেবা গ্রহীতাদের। অতিরিক্ত টাকা গ্রহন, টাকার জন্য হয়রানি, সামান্য ভুলে গ্রহিতাদের ফেরত দেওয়া, সেবা গ্রহিতাদের সাথে খারাপ ব্যবহার, দালালদের সাথে সখ্যতাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। খারাপ ব্যবহারের কারণে পাসপোর্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন এক সেবা গ্রহিতা। দালাল চক্র নির্মুলে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি-পরিচালক এমএ সানি। পাসপোর্ট অফিস ঘুরে সেবা গ্রহিতাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, বাগেরহাট পাসপোর্ট অফিসে নিয়ম মেনে এলে, পাসপোর্টের ফরম জমা দেওয়া যায় না। সময় মত পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। দালালের হাতে টাকা তুলে দিলেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়। পাসপোর্টে জন্মতারিখ, নাম বা নামের অংশ সংশোধনের জন্যও নেওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা।
প্রতিটি সংশোধন বা সংযোজনের জন্য দিতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। পাসপোর্ট অফিসের এই দালালির সাথে অফিসের আশপাশে এবং বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৫০ জন যুক্ত রয়েছে। এসব দালালরা প্রতি পাসপোর্টে সরকারি ফি‘র অতিরিক্ত ৫‘শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দালালদের অভিযোগ এই টাকার একটা বড় অংশ দিতে হয় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এই টাকা পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক, অফিসসহকারি, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক,আনসার সদস্যের মাঝে বিভিন্ন হারে ভাগাভাগি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পাসপোর্ট অফিসে বসে কথা হয় ফকিরহাট উপজেলার শ্যামলসাহা নামের এক ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, স্থানীয় একটি কম্পিউটারের দোকনদারকে ৮ হাজার ৫‘শ টাকা দিয়েছেন পাসপোর্ট করার জন্য। যার কারণে তারন পাসপোর্ট করা অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু দোকানদারের নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি এই বৃদ্ধ। আল মামুন নামের শরণখোলা উপজেলার এক যুবক বলেন, পাসপোর্টে ফরম জমা দিলেই আগে জানতে চায় কোথা থেকে পূরণ করেছেন। তাদের পছন্দমত কম্পিউটারের দোকান বা লোকদের মাধ্যমে ফরম পূরণ
করলে সাথে সাথে জমা নেয়। তিনদিন ঘুরে অনেক কষ্টে পাসপোর্টের ফরম জমা দিয়েছি। রামপাল উপজেলার উকিল উদ্দিন শেখ বলেন, সরকারি জমা ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। কিন্তু সামনের দোকানদার আমার ফরম পূরণ করে ৬ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছে। এমডি মুজাহিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, আবেদন করার সময় এপ্লিকেশন তৈরিতে আমাকে সারাসরি প্রশ্নে করেছে দুই হাজার টাকা দিলে কোন দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। আমি টাকা না দিয়ে এপ্লিকেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজ পাত্র জমা দিতে গেলাম। তারা নিল না, আমার পেশার স্থানে লাল কালি দিয়ে গোল দিয়ে পাঠিয়ে দিল। পরে আবার সেই দোকানে গেলাম সে বলে ২হাজার টাকা হলে হবে, না হলে হবে না,তারপর ২হাজার টাকা দিলাম সেই একই কাগজ পত্র জমা নিল,পরে দেখলাম সেই দোকানদার আমার কাগজ পত্রের ছবিতুলে অফিসের একজনের কাছে পাঠিয়ে দিল তারপর আমার কাগজে আর কোন সমস্যা নাই। শুধু এরা নয়, প্রতিনিয়ত এমন হয়রানির শিকার হতে হয় পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের। পাসপোর্টের ফরম জমা দিতে এসে হয়রানি ও গালিগালাজ করায় বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক এস এম এ সানিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন ফিরোজ হোসেন নামের এক ইটালি প্রবাসী।
তিনি বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, দশ বছর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করি। নিয়ম অনুযায়ী আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে লাইনে দাড়াই। দালাল ও কর্মৎচারীদের যোগসাজশে লাইনে না দাঁড়িয়েই বেশ কয়েকজন ভিতরে প্রবেশ করেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ভিতরে থাকা অফিস সহকারী আমার সাথে দূর্ব্যবহার করেন। খারাপ আচারণের প্রতিকার চেয়ে সহকারি পরিচালকের নিকট অভিযোগ করলে, জানালে তিনিও খারাপ ব্যবহার করেন। পরে দশ বছরের জন্য করা পাসপোর্টের আবেদনে সময়সীমা কমিয়ে ৫ বছর করে দেয় পাসপোর্ট অফিস। পরবর্তীতে পুনরায় দশ বছরের আবেদন করে পাসপোর্ট নিই আমি। পাসপোর্ট অফিসের এই খামখেয়ালির জন্য দুই মারেস বেশি সময় বাংলাদেশে অবস্থান করতে হয় আমাকে। এজন্য আর্থিক ভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে আমার প্রতিষ্ঠান। এই ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমি আদালতের কাছে আদালতে মামলা করেছি।
আশাকরি ন্যায় বিচার পাব। বাগেরহাট আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক এসএমএ সানি বলেন, আমার অফিসে কর্মরতদের মধ্যে কোন দালাল নেই। বাইরে যেসব দালাল রয়েছে, তাদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব সেবা গ্রহিতা পাসপোর্ট করতে এসে হয়রানির শিকার হন, তাদেরকে সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি
Leave a Reply