সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি সাংবাদিকের উপর হামলা নয়, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর আঘাত চুলকাটি প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা বাগেরহাটে ১০ কেজি গাঁজা’সহ দুই মাদক কারবারি আটক চুলকাঠি পলাশ কিন্ডার গার্টেনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোঃ মহিবুল্লাহ শেখকে দেখতে চায় জনগণ বাগেরহাটে তথ্য অধিকার ও জবাবদিহিতা বিষয়ক আলোচনা সভা বাগেরহাটে জেলা সমবায় ভূমির উন্নয়ন ব্যাংকের ২৩তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
ফকিরহাটের ৫টি বিলের ভেড়ীবাধের উপর সবজি চাষে বাম্ফার ফলন: ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত চাষি

ফকিরহাটের ৫টি বিলের ভেড়ীবাধের উপর সবজি চাষে বাম্ফার ফলন: ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত চাষি

পি কে অলোক,নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা মানসা-বাহিরদিয়া ইউনিয়নের ৫টি বিলের মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাধের উপর নানা প্রকার সবজি চাষে এবার বাম্ফার ফসল হলেও চাষিরা বাজারে তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। যে কারনে চাষিরা সবজি চাষে পূর্বের তুলনায় অনেকে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন। পাইকারী বাজারে বাজার মনিটরিং ব্যাবস্থা চালু করে বাজার দর নির্ধারণ করলে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য মূল্য পেলে তারা উৎসাহ পাবেন বলে চাষিদের ধারনা। জানা গেছে, উপজেলার ৫নং মানসা-বাহিরদিয়া ইউনিয়নের ৫টি বিলের মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাধের উপর এলাকার শতশত চাষি নানা প্রকার সবজির চাষ করেছেন। তারা ৫টি বিলের মৎস্য ঘেরের পাড়ে ও পতিত জমিতে এই সবজির চাষ করেছেন। চাষিরা বলেছেন চলতি বর্ষা মৌসুমে তাদের ধারনা ছিল, প্রবল বর্ষনের কারণে ফসল মার যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু চাষিদের সে ধারনা ভুল প্রমান হয়েছে। বিলের অধিকাংশ স্থানেই বাম্ফার ফলন হয়েছে। এতে চাষিরা খুশি হলেও বাজারে সবজির মূল্য অনেক কম হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, সুজলা সুফলা শর্স্যা শ্যামলা সুন্দর এই বাংলাদেশে সবুজের সমারোহ,এ যেন বিচিত্রময় সুন্দর একটি রাজ্য। বড়বড় বিলের মৎস্য ঘেরের পাড়ে যেন সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে। এ যেন বিচিত্রময় এক রুপকথার গল্প। হুচলার বিলের অধিকাংশ চাষিরা নানা প্রকার সবজির চাষ করেছেন। তারা বিলের পর বিল সবুজে সবুজে ঘিরে দিয়েছেন। হুচলা গ্রামের স্থানীয় সবজি চাষি বারিন বাকচি, শিতে বাকচি বলেন, তিনি তাদের দুইবিঘা মৎস্য ঘেরের পাড়ে হাইব্রীড জাতীয় করোলার চাষ করেছেন। ঘেরের ভিতর জাল দিয়ে আঙ্গিনা বানিয়ে এ করোলা চাষ করেছেন। তিনি বলেন সবজির ফলন বাম্ফার হলেও বাজারে দাম অনেক কম। পার্শ্ববর্তী দিপু বাকচি, দিপক বাকচি, বিজন বাকচি, রিপন রায় ও দিলিপ রায় সহ অর্ধশতাধিক চাষি ঘেরের পাড়ে নানা ধরনের সবজির চাষ করেছেন। তারা বলেন, তারা হাইব্রীড করোলা, লাউ, ঝিংগা,ছিম, ধুনদোল, উচতে ও শশা সহ নানা প্রকার সবজির চাষ করেছেন। সাতবাড়িয়া গ্রামের আসলাম আলী শেখ, আওয়াল শেখ, রেজাউল শেখ, সেলিম ফকির, ফজলু শেখ, সোহাগ শেখ, লিটু শেখ সহ একাধিক ব্যাক্তি মৎস্য ঘেরের পাড়ে পুইশাক, লাউশাক, চাল কুমড়া, ডাটাশাক ও পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজির চাষ সফলতার সাথে করেছেন। তারা আরো বলেন, কৃষি বিভাগের কোন প্রকার সহযোগীতা ছাড়া তারা স্বঃস্বঃ উদ্যোগে এই সমস্ত সবজির চাষ করেছেন।হুচলা বিলের চাষি ও সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আসলাম আলী শেখ বলেন, আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের কোন সহযোগীতা ছাড়াই নিজ নিজ উদ্যোগে সবজির চাষ করেছি। তারা বীজ সার বা অন্যান্য উপকরণ দেওয়া তো দুরের কথা কেউ ফসল দেখতে আসেন নি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন,জাহিদুল ইসলাম ও ফারুক ফকির সহ অনেকে। চাষিরা বলেন,জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা মৎস্য ঘেরের পাড়ে কোদাল খুনতা দিয়ে মাটি খুড়ে সবজির চাষ রোপন করেন। এর পর চারা উঠলে চারাকে পরির্চযা করে নেট বা জাল দিয়ে ঘেরের ভিতর আঙ্গিনা দিয়ে সবজির চাষ শুরু করেন। এছাড়াও লালচন্দ্রপুর বিল, গোয়ালের বিল, সাতবাড়িয়া বিলসহ বিভিন্ন বিলে ঘেরের পাড়ে নানা ধরনের সবজির চাষ করেছেন স্থানীয় চাষিরা। করোনা পরিস্থিতির এই র্দুসময়ে চাষিরা ঘরে বসে না থেকে তাদের স্বঃ স্বঃ জমির ঘেরের পাড়ে সবজির চাষ করে নিজেরা আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বি হয়েছেন। এ ব্যাপরে বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম ফকির এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এই অঞ্চলকে কৃষি বান্দব অঞ্চল হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ মাথায় নিয়ে কয়েকটি বিলকে অর্গানিক পল্লী হিসাবে ঘোষনা করেছি। সেই বিলের কৃষকরা অর্গানিক পদ্ধতিতে সকল ফসল উৎপাদন করছেন বলেও তিনি দাবী করেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers