সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
চুলকাঠি ডেস্ক
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে থারপারকার ও উমরকোট জেলার থার মরুভূমিতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১৪৩ জন আত্মহত্যা করেছেন।বিরূপ আবহাওয়া পাকিস্তানের মরু অঞ্চলে দারিদ্র্যের একটি বড় কারণ, যা মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী, পাকিস্তানের থার মরুভূমির জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। জলবায়ু পরিবর্তন এখন স্থানীয়দের আরও বঞ্চনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।সিন্ধু মানসিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ (এসএমএইচএ) জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সিন্ধুতে ৭৬৭ জনের আত্মহত্যা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে থারপারকার জেলার থার মরুভূমিতে সর্বাধিক ৭৯টি ঘটনা ঘটেছে এবং অন্য ৬৪টি মরুভূমির উমরকোট জেলায় হয়েছে।কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, থার মরুভূমিতে মোট ১৪৩টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সিন্ধুতে প্রতি পাঁচটি আত্মহত্যার মধ্যে একটি ঘটে মরু অঞ্চলে।দ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর ওয়াটার, এপ্লাইড এডুকেশন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি নামে একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে থার মরুভূমিতে মোট ৩৪৮টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আলি আকবর রহিমো বলেছেন, প্রতিদিন মরুভূমিতে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে থারপারকার জেলায় আত্মহত্যার ঘটনা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ২০টি, যার মধ্যে ১৩ জন নারী ছিলেন। সিন্ধু মানসিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের রিপোর্টে প্রদেশজুড়ে মানসিক অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা এবং দারিদ্র্যকে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, থার অঞ্চলে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খরা।রহিমো বলেন, ১৯৭০-এর দশকের পরে এই অঞ্চলে অতীতের তুলনায় প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদী খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা গেছে। আজকাল সেখানে বৃষ্টিপাত হলেও অনিয়মিত ও দেরিতে হয়। যার প্রভাব সে অঞ্চলের অর্থনৈতিক চক্র এবং কৃষিকাজের ওপর পড়ে।মিরপুরখাসভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লাকেশ খাতরি থার মরুভূমিতে কাজ করেছেন। তিনি জানান, খরার সঙ্গে জড়িত মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো জড়িত। মরুভূমিতে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধিতে পরিবারের আয়েরও প্রভাব রয়েছে।ডা. খাতরির মতে, মরুভূমিতে কোনো বৃহৎ নদীর পানি সরবরাহ বা অন্য কোনো জীবিকার উৎস না থাকায় থারের অর্থনীতি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘায়িত খরা আয়ের সহজলভ্য উপায় কমিয়ে দেয়। জীবিকার সুযোগের অভাব এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব বাসিন্দাদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। আর এ থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।মরু অঞ্চলে চীনা অর্থায়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়রা থার কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি তাদের পানিকে দূষিত করবে এবং তাদের পৈতৃক জমি হুমকির মুখে ফেলবে। তবে এরপরেও সেখানে নির্মাণকাজ চলছে।প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্মিত মেগা প্রকল্পগুলো থেকে স্থানীয়দের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটছে না বলেও উল্লেখ করে আলি আকবর রহিমো।ইসলামাবাদভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নীতি ইনস্টিটিউটের গবেষক মরিয়ম শব্বির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দারিদ্র্য দেশের দরিদ্র অঞ্চলগুলোর সমস্যায় এক নতুন সংযোজন। সেখানে বিরূপ আবহাওয়া জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।তিনি বলেন, প্রাক-নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করা যেতে পারে। যদি সমাধান না করা হয় তবে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
Leave a Reply