শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
চলছে রমজান, কি তারাবি কি ইফতার, অস্বাভাবিক তাপদাহের মধ্যেই বাগেরহাটে শুরু হয়েছে যখন তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং। একদিকে অসহ্য গরমে নাজাহেল জনজীবন, তার ওপর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে পরিস্থিতি চরম আকারে ধারন করেছে। দিনে চার থেকে পাঁচ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। রুটিন মেনে লোডশেডিংয়ের নিয়ম আর মানা হচ্ছে না। তীব্র গরম আর লোডশেডিং নিয়ে ভুক্তভোগীরা দিন কাটাচ্ছেন অতি কষ্টে, একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে অত্যাধিক গরমের কারণে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘটছে চরম ব্যাঘাত। নবজাতক ও রোগীরা লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া বিদ্যুতের অভাবে কৃষি খামারে প্রচুর পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল বলেন, গরমের মধ্যেও দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে ফসলাদি ক্ষতির হুমকির মুখে। ইফতার কিংবা তারাবির নামাজের সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। একদিকে প্রচন্ড গরম, অপরদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাগেরহাট বাসীর জনজীবন। তীব্র তাপদাহ জনজীবন হাপিয়ে উঠেছে। এতে কর্মজীবী ও রোজাদার মানুষের দৈনন্দিন কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে বিপাকে পড়েছে মধ্যেবিত্ত আয়ের মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় উপর দিয়ে বয়ে মাত্রাতিরিক্ত তীব্র তাপদাহ ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ ী সকল শ্রেণি পেশার মানুষ বাইরের কড়া রোদ আর ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়া জনিত রোগ দেখা দিয়েছেঅভিভাবকরা বলছেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে রাতে ঘুম না হওয়ায় দিনের বেলায় এর প্রভাব পড়ছে পড়াশুনায় মনোযোগী হতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।
দেশজুড়ে সকাল ৭টার পর থেকে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। দুপুরে তীব্রতা আরও বেশি। রোজাদারের জন্য কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রচন্ড এ গরমে বিপাকে পড়েছে মধ্যেবিত্ত মানুষগুলো ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। প্রচন্ড এই রোদে ভ্যান তাদের একমাত্র আয়ের আশা তীব্র এই গরমে থেমে নেই সীমাহীন কষ্ট তাদেও দিকে তাকালেই চোখ যেন ঝাপসা হয়ে আসে। টানা গরম আর অনাবৃষ্টিতে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত।একটু শীতল বাতাসের আশায় হয়তো গাছের ছায়ায় না হয় পুকুর পাড়ে নদীর ধারে ঘরে-বাইরে কোথাও নেই স্বস্তি ।
এই অচল অবস্থা ব্যবসায়ীদের ও করেছে অভিযোগের পাহাড় । বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা সংকটে ক্ষতির মুখে পড়েছেন মিল মালিকেরা। পবিত্র ঈল-উল-ফিতরের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন উচ্চ বিলাসী আয়ের মানুষেরা তারপে ও ভোগান্তির শেষ নেই। বড় বড় বিপীকেন্দ্র গুলোতে শীতল তাপের ব্যবস্থা থাকলে ও দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাচ্ছন্দ বোধ নাই। অপরদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনে-রাতে গড়ে কয়েক ঘণ্টা করে ৪-৫ বারও হচ্ছে লোডশেডিং। পিক আওয়ারে অতিরিক্ত লোডশেডিং হওয়ায় ক্রেতারাও আসছেন না। ফলে কমে গেছে কেনাবেচাও।
একজন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ! ২/৩ ঘন্টা পরে আসেন ৩০ মিনিট পর চলে যায়! গত কয়েক দিন তাপমাত্রা ছিল ২৫-২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বর্তমানে বাংলাদেশের উপর দিয়ে পারদ পড়তেছে অতিরিক্ত ৪১ ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। এর আগে গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে সব রেকর্ড ভেঙে গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। পরদিন গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াট। তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। এর আগে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল দেশে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়।পিডিবি সূত্র বলছে, রমজান ও গ্রীষ্মকাল বিবেচনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টার ফল এই নতুন উৎপাদনের রেকর্ড।
Leave a Reply