শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন
মোল্লা আব্দুর রব বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়ায় পূর্ব শত্রæতার জেরে মো. মোজাহার মোল্লা (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।শনিবার সকালে কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে ওই কৃষকের বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।এসময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের পরিবারের নারীসহ ৭জন আহত হয়েছেন।ভাংচুর করা হয়েছে নিহত ও তার স্বজনদের তিনটি বসত বাড়ী।নিহত মো. মোজাহার মোল্লা আলিপুর গ্রামের মৃত জোনাব আলী মোল্লা ছেলে।ঘটনার পর ফের সংঘর্ষের আশংকায় ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঢাল সরকি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।হামলায় আহতরা হলেন, নিহত মো. মোজাহার মোল্লার মা মোমেনা বেগম (৬৫),চাচাতো বোন রিক্তা বেগম (৩৫),মুক্তা বেগম (৪০),চাচাতো ভাই মতিয়ার রহমান (৪৩),ইউনুস মোল্লা (২৮),চাচাতো ভাইয়ের বউ শাহিদা বেগম (৪০),মরিয়ম বেগম (৩৫), ভাইপো লিটু (২৭) ও রাব্বি (১৮)। আহতরা বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলিপুর গ্রামের প্রভাবশালী রাসেল শেখ ও ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লার সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এর আগে এই হামলাকারীরাই হাফিজুর রহমান মোল্লাকে মারধর করেছিল।ওই হামলায় পঙ্গু হয়ে গেছেন হাফিজুর রহমান মোল্লা। তিনি গজালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।নিহত মো. মোজাহার মোল্লা হাফিজুর রহমান মোল্লার চাচাতো ভাই।তিনি গজালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।মোজাহার মোল্লার দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত মোঃ মোজাহার মোল্লার বাড়ির ঘরের সামনে কয়েক জায়গায় রক্ত পড়ে রয়েছে।ঘরের ভেতরে নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা কাঁদছে।সহজ সরল বাবাকে ওরা মেরে ফেলল বলে,বিলাপ করছেন সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধ।খোজ নিয়ে জানাযায়, বিলাপ করা বৃদ্ধ মোহাজাহার মোল্লার মা মোমেনা বেগম।
নিহতের মা মোমেনা তিনি বলেন,জমি থেকে এসে ঘরের সামনে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল আমার ছেলে মোঃ মোজাহার মোল্লা।এর মধ্যে রাসেল শেখ, মহিদ শেখ, তুহিন শেখ, ইসমাইল, ইদ্রিস, কুদ্দুস ও নজরুল সরদারসহ ১২-১৩ জন লোক রামদা, শর্কিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে মোঃ মোজাহার মোল্লাকে এলোপাথারিভাবে কোপাতে থাকে। নিষেধ করলে, ওরা আমাকেও মারধর করে। আমি আমার সন্তানকে হত্যার বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ আতিয়ার মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে দাও, লাটি, কুরাল ও শর্কি নিয়ে ১০-১২ জন এসে মোজাহার মোল্লাকে কোপাতে শুরু করে। নিষেধ করলে ওরা মোজাহারের বৃদ্ধ মা মোমেনা বেগমকেও মারধর করে।মোজাহারের ডাক চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসলে আরও কয়েক জনকে মারধর করে ও কোপায় হামলাকারীরা।
এর আগে হামলার শিকার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান মোল্লার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন,আমার ভাসুর মোজাহার মোল্লার হত্যাকারীরা আমার স্বামীকে হত্যার জন্য আমাদের ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। বাঁধা দিলে আমার হাতে আঘাত করে।এলাকার লোকজন চলে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
মরিয়ম বেগম আরও বলেন, এর আগে ওরা আমার স্বামীকে রাতের আধারে কুপিয়েছে।প্রায় এক মাস ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আমার স্বামী বাড়ি এসেছে। তখনকার মারধরের বিচার হলে এই হত্যাকান্ড ঘটত না বলে দাবি করেন এই নারী।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সমন্বয়কারী পরিদর্শক এস,এম আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ, এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে সাতটার দিকে পূর্ব শত্রæতার জেরে মোজাহার মোল্লার হত্যাকারীরা কুপিয়ে ও মারধর করে ফেলে রেখে যায় আ,লীগ নেতা মোঃ হাফিজুর রহমান মোল্লাকে।পরবর্তীতে আহতের বড় ভাই মোঃ আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।ওই মামলার সকল আসামীরা জামিনে রয়েছেন।
Leave a Reply