সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
মোল্লা আবদুর রব,বাগেরহাট ব্যুরো।
মুসলিম ধর্ম প্রচারক হযরত খানজাহানের প্রায় সাড়ে ৬শত বছর আগের বসতভিটা খনন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে প্রাচীন সুলতানী আমলে দেওয়াল, টেরাকোটা, ড্্েরন, তৈজষপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বিশ^ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ সুলতানী আমলে বাগেরহাটে পুরাকীর্তিগুলো বিশে^র দরবারে দির্ঘ্যদিন ধরে সমাদৃত। ষাটগম্বুজ মসজিদসহ হযরত খানজাহানের (রহ:) বিভিন্ন পুরাকীর্তি দেখতে প্রতিনিয়ত বাগেরহাটে আসেন দেশী-বিদেশী হাজার হাজার দর্শনার্থীর। যা থেকে দেশের সভ্যতা ও সংষ্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। আবার অনেক পুরাকীর্তি হারিয়ে যাওয়ার কারনে দির্ঘ্যদিন ধরে খননের মাধ্যমে প্রতœতত্ব আধিদপ্তর অজানাকে জানিয়ে দিচ্ছে। যা থেকে নতুন প্রজন্ম অজানা বিভিন্ন সময়ের ইতিহাস সর্ম্পকে জানতে পারছে।
সরোজমিনে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশে সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত হয়রত খানজাহানের বসতভিটায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই শুরু হওয়া দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত খনন কাজে প্রতœতত্ব অধিদপÍরের সাথে স্থানীয় ১৪ জন শ্রমিক যতœ সহকারে এসব নিদর্শন সংরক্ষনে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন দেওয়াল ও তার ভগ্নাংশ,টেরাকোটা ও প্রাচীন আমলের তৈজষপত্র অজানা প্রতœবস্ত উৎঘাটন করা হচ্ছে। মাসব্যপি শুরু হওয়া এ খনন কাজের ফলে উম্মোচিত হচ্ছে অনেক অজানা তথ্য। শুধু তাই নয়, গেল ২০ বছর ধরে খননের ফলে নতুন নতুন তথ্য উপাত্ত সংরক্ষন করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সুলতানী আমলে খানজাহানের বসতভিটার ভূমির স্তর বিন্যাস, স্থাপত্য শৈলি ও কালানুক্রমিক সময় বের করাই এই খননের মূল উদ্দেশ্য। মাটির নিচে পাওয়া বিভিন্ন প্রত্মবস্তু পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে রেজিষ্ট্রেশন করে বিভিন্ন যাদুঘরে রাখা হবে। মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই খনন কাজ শেষ হবে আগামী ৩১ জানুয়ারী।
প্রত্মতত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ১৯৮৫ সালে খানজাহান আলী (রহ) এর নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ১৭টি স্থাপনাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা এলাকায় অবস্থিত খানজাহান আলী (রহ) এর বসত ভিটা অন্যতম। ২০০০ সালের পরে প্রত্মতত্ব অধিদপ্তর এই বসত ভিটাকে প্রত্মতাত্বিক গুরুত্ব নির্নয়ের জন্য কয়েক দফায় খনন করা হয়। টিন সেডের একটি সাইড অফিসও তৈরি করে তারা। এর ধারাবাহিকতায় প্রত্মতত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতার নেতৃত্বে আবারও খনন কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের সাতজন কর্মকর্তা ও অনিয়মিত ১৪ জন শ্রমিক এই খনন কাজ ও গবেষনায় অংশগ্রহন করছেন। ৩১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া খনন কাজে ইতিমধ্যে মাটির নিচে ইটের দেওয়াল, সিমেন্ট ও বালুর তৈরি মেঝে, সুলতানী আমলে দেওয়াল, টেরাকোটা, ড্্েরন, সুলতানি আমলে ব্যবহৃত মাটির তৈরি পানির পাত্র, তৈজষপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও প্রত্মবস্তু পাওয়া গেছে।
বাগেরহাট প্রত্মতত্ব অধিদপ্তর এর কাস্টোডিয়ান মোঃ জায়েদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৬শ বছর আগের এ বসতভিটা খননে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমির স্তর বিন্যাস, স্থাপত্য শৈলি ও কালানুক্রমিক সময় বের করা। খননের মাধ্যমে পাওয়া স্থাপনা, ইট ও তৈজসপত্রসহ নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে আমরা গবেষনা করব।
প্রতœতত্ব অধিদপ্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, শুধু এই বছরই নয়। দির্ঘ্য ২২ বছর খানজাহানের বসতভিটা খনন চলছে। যতদিন পর্যন্ত পুরোপুরি নিদর্শণগুলো উৎঘাটন করা সম্ভব হবে না ততদিন পর্যন্ত খনন কাজ চলবে। আর এই খননের ফলে শুধু দেশের প্রজন্ম নয় বিদেশেও আমাদের ্ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।
Leave a Reply