শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি’র নেতার হামলায় মা ও ছেলে মারাত্মক জখম বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা খেলার সরঞ্জাম বিতরণ রাজনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান পলাশের মোটরসাইকেল গণসংযোগ রামপালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের জোবায়ের, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা রামপালে জমি দখল চেষ্টা ও মামলা করে হায়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থার মতবিনিময় সভাকে ঘিরে জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুর রহমানের ব্যাপক প্রস্তুতি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি
নুর ইনায়েত খান: নাৎসীদের হাতে ধরা পড়া প্রথম মুসলিম নারী গুপ্তচর

নুর ইনায়েত খান: নাৎসীদের হাতে ধরা পড়া প্রথম মুসলিম নারী গুপ্তচর

লন্ডনের ব্লুমসবারি এলাকায় যে বাড়িটিতে থাকতেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মুসলিম নারী গুপ্তচর নুর ইনায়েত খান, সেটিতে তাঁর স্মরণে স্থাপন করা হয়েছে একটি নীল ফলক।

ব্রিটেনে বিখ্যাত লোকজন যেসব বাড়িতে থেকেছেন, সেগুলোতে সাধারণত এরকম নীল ফলক লাগানো হয় সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। তবে এই প্রথম ব্রিটেনে ভারতীয় কোন নারীর জন্য কোন বাড়িতে এরকম নীল ফলক লাগানো হলো।

নুর ইনায়েত খান ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ গুপ্তচর। তিনি কাজ করতেন ব্রিটিশ সরকারের ‘স্পেশাল অপারেশন্স এক্সিকিউটিভ (এসওই) নামের একটি গুপ্ত সংস্থায়। জার্মানি যেসব দেশ দখল করে নিয়েছিল, সেসব দেশে এই সংস্থাটি গুপ্তচর পাঠাতো। উদ্দেশ্য ছিল সেসব দেশে যারা নাৎসী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের সাহায্য করা।

নুর ইনায়েত খানকে পাঠানো হয়েছিল প্যারিসে। ধারণা করা হয়, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে কাজ করা প্রথম মুসলিম নারী গুপ্তচর।

নুর ইনায়েত খান জার্মান গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘গেস্টাপো’র হাতে ধরা পড়েন। এরপর ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক কনসেনন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার মৃত্যু হয়।

যেভাবে নুর ইনায়েত খান গুপ্তচর হয়েছিলেন

নুর ইনায়েত খানের জন্ম মস্কোতে। তাঁর বাবা ছিলেন ভারতীয়, মা মার্কিন নাগরিক।

লন্ডনের যে বাড়িতে থাকতেন তিনি, সেটিতে লাগানো হয়েছে নীল ফলক
ছবির ক্যাপশান, লন্ডনের যে বাড়িতে থাকতেন তিনি, সেটিতে লাগানো হয়েছে নীল ফলক

তার বাবা এসেছিলেন এক ভারতীয় রাজ পরিবার থেকে। তারা থাকতেন লন্ডন এবং প্যারিসে।

নুর ইনায়েত খানের বয়স যখন মাত্র ১৩, তখন তার বাবা মারা যান। এরপর নিজের মা এবং অন্য ভাইবোনদের সাহায্য করতে তাকে দায়িত্ব নিতে হয়।

সঙ্গীতে তার ভীষণ আগ্রহ ছিল। সেই সঙ্গে শিশুদের জন্য লেখালেখিতে। এসব লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে।

জার্মানি যখন ফ্রান্স দখল করে নিল, নুর এবং তার পরিবার ইংল্যান্ডে পালিয়ে আসেন। ১৯৪০ সালের নভেম্বরে তিনি যোগ দেন উইমেন্স অক্সিলারি এয়ারফোর্সে (ডাব্লিউএএএফ)।

১৯৪২ সালের শেষের দিকে তাকে ‘স্পেশাল অপরেশন্স এক্সিকিউটিভের (এসওই) একজন রেডিও অপরেটর হিসেবে রিক্রুট করা হয়।

এসওই এজেন্টদের যুদ্ধ করার প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। সেই সঙ্গে রেডিও এবং টেলিগ্রাফ পরিচালনার। যাতে করে শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়া যায়।

এদের প্রায়শই নানা রকম গোপন যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে হতো। যেমন ছাতা বা পাইপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা যায় এমন বিস্ফোরক ভর্তি কলম। জেমস বন্ড ছবিতে পরবর্তীকালে যে ধরণের গোপন অস্ত্র দেখানো হতো, অনেকটা সেরকম।

তাদের মিশনগুলো ছিল বেশ বিপদজনক। অনেকেই জানতো, অভিযানে গিয়ে হয়তো তারা আর ফিরে আসবে না। তবে এই ঝুঁকি তারা মেনে নিয়েছিল।

বিবিসির একটি জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজ ডক্টর হুর একটি এপিসোডে নুরের ভূমিকায় অভিনয় করেন অভিনেত্রী অরোরা মেরিয়ন
ছবির ক্যাপশান, বিবিসির একটি জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজ ডক্টর হুর একটি এপিসোডে নুরের ভূমিকায় অভিনয় করেন অভিনেত্রী অরোরা মেরিয়ন

নুর ইনায়েত খানের কাজ ছিল লন্ডনে গোপন বার্তা পাঠানো। এটি ছিল বেশ বিপদজনক কাজ।

তবে তিনি গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন শত্রুপক্ষের পেছনে। তাকে প্যারাশ্যুটে ড্রপ করা হয়েছিল জার্মান অধিকৃত ফ্রান্সে।

নুর ইনায়েত খানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘ম্যাডেলিন‌‌’ এবং ফ্রান্সে তখন আরও যে শত শত গুপ্তচর কাজ করছিল তিনি গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

নুর ফ্রান্সে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাদের এসইও নেটওয়ার্কের অনেক গুপ্তচর ধরা পড়েন। তবে তারপরও নুর ফ্রান্সে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন গ্রেফতার এড়ানোর জন্য।

তার প্রথম মিশনে কাজ করার সময়েই তিনি ধরা পড়েন। তবে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এর কয়েক মাস পর তাকে আবার আটক করা হয়।

আরও তিনজন গুপ্তচরের সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক কনসেনট্রেশন্স ক্যাম্পে। জার্মান কারারক্ষীরা তাকে এক বছর ধরে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে রেখেছিল। এরপরও নুর ইনায়েত খান কোন ধরণের গোপন তথ্য ফাঁস করতে অস্বীকৃতি জানান।

নুর ইনায়েত খানকে তার সাহসিকতার জন্য জর্জ ক্রস দেয়া হয়। এটি ব্রিটেনে বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মাত্র যে তিনজন নারী এই খেতাব পান, তিনি ছিলেন তার একজন।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers