বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের কচুয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা সমালোচনা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০২৪ সালে এসএসসি পাশ করার পরে ওই শিক্ষার্থী ঢাকার কাছাকাছি একটি জেলায় থাকেন। অভিযুক্ত শিক্ষক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে যোগ দিতে ঢাকায় যাবেন। এ কথা শুনে শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষককে বলেছিলেন, ঢাকায় আসলে যেন তিনি সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়ণপত্র নিয়ে আসেন। পূর্ব নির্ধারিত সময় ১৪ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক আন্দোলনে যোগ দিতে এবং শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ঢাকায় যান। সেদিন সকালে শিক্ষক প্রথমে তাকে নাস্তা করান। এরপরে সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়নপত্র নিতে গুলিস্তানের নবাবপুর রোডে অবস্থিত হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) এ যাওয়ার কথা বলেন। এসময় রিসিপশনে শিক্ষার্থীকে মেয়ে পরিচয়ে হোটেলের ৮১৬ নাম্বার কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ওই শিক্ষার্থী কৌশলে হোটেল রুম থেকে বেড়িয়ে রিসিপশনে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী ২৩ অক্টোবর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট ও প্রাণের শহর কচুয়া নামের একটি গ্রুপে স্টাটাস দেয় ওই শিক্ষার্থী। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। প্রধান শিক্ষককে তিনি খুব শ্রদ্ধা করতেন। ওই শিক্ষক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করবেন তিনি ভাবতেই পারেন না। এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার কাছে আসেন এবং সনদপত্র-প্রতয়ন পত্র নিয়ে চলে যায়। ওই শিক্ষার্থী তার কাছে নৌবাহিনীতে চাকুরীর জন্য ৫০ হাজারা টাকা চায়, ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি করায় ওই শিক্ষার্থী রুমের চাবি নিয়ে দৌড় দেয়। পরে ৯-১০ দিন পর ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এবিষয়ে শুক্রবার বিকেলে কচুয়া প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন এই শিক্ষক।
ঢাকায় ওই শিক্ষকের সাথে হোটেল কক্ষ শেয়ার করে থাকা গজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সবুজ হাসান বলেন, ওই সময় আমি হোটেলে ছিলেন না। হোটেলের লোকজন আমাকে ফোন করে আনে। পরে শুনেছি শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হোটেলের লোকজন নাকি প্রধান শিক্ষক আল মাহমুদকে লাঞ্চিত করেছেন।
হোটেল সাদমান ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)- এর কর্মকর্তা মোহসিনুর রহমান বলেন, শিক্ষক আল মাহমুদ ওই শিক্ষার্থীকে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। আমরা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর কথা বলি। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী নিজে এবং মুঠোফোনে শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি থানা পুলিশ না জানাতে অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কথা অনুযায়ী তাকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। আর ওই শিক্ষককে তাদের সহকর্মীদের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয।
বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মোহা: সাদেকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply