বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
চুলকাটি প্রতিনিধি:
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চুলকাটি বনিকপাড়া পূজা মন্ডপে ১৫১টি প্রতিমার জমকালো শারদীয় দূর্গোৎসব এর আয়োজন করা হয়েছে। খানপুর ও রাখালগাছি ইউনিয়নে এ বছর ২৫টি পূজা মন্ডপে শারদীয়া দূর্গা পূজা উদযাপনের চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চুলকাটি বনিকপাড়া সর্বাজনীন দূর্গা মন্দিরে এবারের চোখ ধাঁধালো আয়োজনে ১৫১টি প্রতিমার সাজ সজ্জা ও রং তুলির কাজ শেষ। ২টি ইউনিয়নে মোট ২৫টি মন্ডপে বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী এসব সার্বজনীন মন্ডপ তৈরি করে পূজার প্রস্তুতি চলছে। বাকি মাত্র কয়েকদিন। সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গা পূজা সারা দেশের ন্যায় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষে প্রতিমা তৈরিতে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা ভাস্কাররা। এদিকে উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে সাজ-সাজ রব।
ঐতিহ্যবাহী চুলকাটি বনিকপাড়া সর্বাজনীন দূর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাস্কার প্রশান্ত দাশ বলেন, চুলকাটি বনিকপাড়া সর্বাজনীন পূজা মন্ডপে ১৫১ টি প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে। প্রতিমার রং তুলির কাজ শেষ। আগামী রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেবী পক্ষের ষষ্ঠি তিথীতে বোধন তলায় মঙ্গল ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দূর্গা দেবীর এ উৎসব শুরু হবে। এতে কৃত্রিম জীবন পাচ্ছেন দেবী দূর্গা, শিব, লক্ষী, সরস্বতি, কার্তিক, গনেশ ও অসুর প্রতিমা। এরপর কোন কোন প্রতিমায় আবার পরানো হচ্ছে শাড়ি, হাতের বালাসহ অন্যান্য গয়না। এ ছাড়া ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি, আর আরতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে পূজা মন্ডপগুলো। দেবীর আরাধনার মধ্যে দিয়ে আগামী ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাবিজয় দশমীতে দেবী দূর্গা প্রতিমা বির্ষজনে এ উৎসবের সমাপ্তী ঘটবে। এ বছর দেবী দূর্গার আগমন হবে হাতিতে চড়ে। আর প্রস্তান হবে দোলায় চড়ে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
চুলকাটি বনিকপাড়া সর্বাজনীন দূর্গা মন্দিরের আর এক ভাস্কার প্রকাশ পাল জানান, প্রতিমা রং তুলি শেষে এখন সাজ সজ্জার কাজ চলছে। এবার আমরা ২টিম মিলে বনিকপাড়ায় ১টি মন্ডপে ১৫১টি প্রতিমা তৈরি করেছি।
বনিকপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমারেশ সাধু এক প্রতিবেদকে জানান, এ বছর বাগেরহাট সদর চুলকাটি বনিকপাড়া পূজা মন্ডপে সর্ববৃহৎ ১৫১ টি প্রতিমা পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষে প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রত্যেক মন্ডপ কমিটিকে বলেনটিয়ার টিম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা সৃষ্টি না হয়। এ ছাড়া মন্দিরের বাহিরে সকল প্রকার আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলার আয়োজন, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি থাকবে। সকল অপশক্তি রুখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রেখে সবাই মিলে মিশে শান্তিপূর্ণ ভাবে দূর্গোৎসব পালন করবেন বলে তিনি জানান। এদিকে চুলকাটি সর্বাজনীন পূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরীতে সার্বিক সহযোগিতায় থাকা নিতাই চন্দ্র সিংহ বলেন দিপু সাধু ও শংকর সরকার আমরা ৩জন সার্বিক সহযোগিতা ও পরিচালনায় গত ৩ মাস ধরে প্রতিমা ভাস্কাররা তাদের কারুকার্য চালিয়েছে আমরা তাদের সাহার্য্য সহযোগিতা ৎকরেছি। বিগত ২৪ বছরে আজ পর্যন্ত বনিকপাড়ায় পূজা উদযাপনে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি আমরা শান্তি শৃঙ্খলার সাথে প্রতি বছর দূর্গা পূজা উৎসব পালন করে আসছি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে দূর্গোৎসব পালনের লক্ষে উপজেলার পূজা মন্ডপগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে এবং আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পুলিশ, সেনাবাহিনী, ব্যাটিলিয়ান আনসার, সাধারণ আনসারসহ পৃথক ২টি মোবাইল টিমের সদস্যরা মোতায়ন থাকবে। এ ছাড়াও প্রতি ইউনিয়নে চেক পোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।
Leave a Reply