বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর থানাধীন ০৮নং খানপুর ইউনিয়নের নিকলেপুর গ্রামে নারকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে দশ লক্ষ টাকার মুক্তিপণের দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিকলেপুর গ্রামে । ভিকটিম দিপক চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় স্বামী, স্ত্রী ও অজ্ঞাতমানা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত শশধর পালের পুত্র বিজন পাল (৬০), মঞ্জু রানী পাল (৫০) স্বামী বিজন পাল। ভিকটিম এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি একজন নারিকেল ব্যবসায়ী। বিবাদী দ্বয় আমাদের প্রতিবেশী ছিল। বিজন পাল ফ্রান্স প্রবাসী। গত ২০১৭সালে বিবাদীদ্বয় আমার মাধ্যমে কিছমতভট্ট (নিকলাপুর) এলাকার তাহাদের জায়গা জমি বিক্রী করে। বিবাদীদ্বয় আরো জায়গা বিক্রী করার কথা বলে আমাকে পার্টি ঠিক করে বায়না দিতে বলে পরে বিবাদী বিজন পাল ফ্রান্সে চলে যায় এবং তাহার স্ত্রী মঞ্জু রানী পাল ভারতে বসবাস করে। আমি বিবাদীদ্বয়ের কথা বিশ্বাস করে সরল মনে কিছু লোকজনদের নিকট বিজন পালের জায়গা বিক্রী করার কথা বলে দর ঠিক করে বায়না বাবদ কিছু টাকা আমি গ্রহন করি। পরবর্তীতে বিবাদী দ্বয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানলে তাহারা দেশে এসে দলিল দিবে বলে জানায়। ঘটনার ৩/৪ দিন পূর্বে বিবাদীদ্বয় কিছমতভট্ট নিকলাপুর গ্রামে বাড়ীতে আসে। গত (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল অনুমান ১০ টার সময় আমি চুলকাঠি বাজারস্থ জনৈক ইউনুচ এর পানের দোকানের সামনে আসলে বিজন পাল ও বহিরাগত লোকজন নিয়ে আমাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে ফকিরহাট থানাধীন বাঁশবাড়িয়া গ্রামে জামাল এর বাড়ীতে নিয়ে যায়। জামাল এর বসত ঘরে অবৈধ ভাবে আটক করে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবী করে। আমি টাকা না দিলে বহিরাগতরা মারপিট করে। মঞ্জু রানী পাল বহিরাগত লোকজনদের বলে দুইটি চোখ তুলে নিতে। এক পর্যায়ে বিবাদীদ্বয় আমার কাছে থাকা নারিকেল ক্রয়ের নগদ ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এবং ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানাইলে আমাকে খুন করার হুমকি দেয়, এছাড়া আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৭/৮ টি অলিখিত স্ট্যাম্প এবং অগ্রনী ব্যাংক, চুলকাঠি শাখার আমার একাউন্টের ৪/৫টি চেকের পাতায় জোর করে স্বাক্ষর রাখে। তুলে নেওয়ার সংবাদ শুনে আমার স্ত্রী জোছনা রানী পাল চুলকাঠি ফাড়ীর পুলিশ নিয়ে বিকাল অনুমান ৩ টার সময় ফকিরহাট থানাধীন বাঁশবাড়িয়া গ্রাম জামাল এর বাড়ী থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে। আমি ও আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিবাদী বিজনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহারিত ফোরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এব্যাপারে অভিযোগ তদন্তকারি চুলকাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বিধান চন্দ্র মল্লিক এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন অভিযোগটি পেয়েছি এবং আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a Reply