শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ

আমাদের চুলকাঠি ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন chulkati24@gmail.com এই ই-মেইলে ।

ফকিরহাটের লখপুর ও ভবনা গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিতে ভাসছে

ফকিরহাটের লখপুর ও ভবনা গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিতে ভাসছে

এইচ এম নাসির উদ্দিন, (কাটাখালি) : বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের লকপুর ও ভবনা গ্রাম পানিতে ভাসছে। লকপুরের যুগীখালী নদীর ৬ গেট নামক স্থানে স্লুইস গেটের দরজা নষ্ট হওয়ায় এবং খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের কার্যক্রমে নির্মানাধীন সড়কের বাধ দেওয়ার কারনে এবং অতিবৃষ্টিসহ দক্ষিনাঞ্চলের নদীগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধির কারনে উক্ত গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিতে ভাসছে। সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায় উপজেলার লখপুর, জাড়িয়া, ভট্টখামার, ভবনা, বেতাগা, চাকুলি, ধনপোতা, মাসকাটা, শ্যামবাগাত ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা, আমিরপুর, খড়িবুনিয়া, ঝিনাইখালিসহ অনেক গ্রামের পানি নিস্কাশনের জন্য ৮০’র দশকে মরা পশুর নদীর অগ্রভাগে, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটার নারানখালি গ্রাম এবং বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ভট্টখামার গ্রামের সংযোগ স্থলের পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্লুইস গেট নির্মান করা হয়। যাহাতে ৬ গেট বিশিষ্ট রেগুলেটর স্থাপন করা হয়। যেখানে বৃষ্টির পানি অপসারন হবে এবং জোয়াড়ের পানি উঠতে পারবেনা এ আদলে ৬ গেট বিশিষ্ট এই স্লুইস গেট নির্মান করা হয়। বর্তমানে উক্ত স্লুইস গেটের সকল দরজাগুলি নষ্ট হওয়ার কারনে বৃষ্টির পানি একবার নামে এবং জোয়াড়ের পানি উঠায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সংগে যোগ হয়েছে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের নবনির্মিত সড়কটি, উক্ত স্লুইস গেটের সন্নিকটে পানি নিস্কাশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ। রেল সড়ক কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে কয়েকটি পাইপ দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা রাখলেও তাহা যথেষ্ট নয়।

দক্ষিনাঞ্চলে নদীগুলোতে বন্যার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অতি বর্ষনের কারনে উক্ত গ্রামগুলোর পানি অপশারন না হওয়ায় গ্রামবাসি পানির উপর ভাসছে। এলাকাবাসির রান্না-খাওয়া, বসবাস অনুপযোগীসহ মৎস্য ঘের, ধান ক্ষেতসহ অন্যান্য রবিখন্দ ও ফলজ এবং বনজ বৃক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গ্রামবাসির বসত ঘরের ভিতর পানি উঠে রান্না ও থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে মাসকাটা, খড়িবুনিয়া, ভবনা, জাড়িয়া গ্রামের পানি নিস্কাশনের আরো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে গ্রামের কয়েকজন কতিপয় স্বার্থানেশি মহল। তারা মাছ চাষের নামে ভেড়িবাধ দিয়ে প্রায় শতাধীক স্থানে পাটা ও জাল দিয়ে পানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। প্রতিটি পাটায় পানি সরবরাহে কয়েক ইঞ্চি করে ব্যাবধান থাকলে শতাধিক স্থানে পাটা থাকায় ব্যপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারনে উক্ত গ্রামগুলোতে কৃত্রিম জ্বলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভবনা গ্রামবাসি ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আমি ইতিপূর্বে খাজুরা এলাকায় কয়েকটি স্থানে পানি নিস্কাশনের জন্য বাধ বা পাটা অপসারন করেছি। বাকিগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। নব-নির্মিত রেল সড়কের ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের কর্তব্যরত প্রকৌশলী মাসুদ রানার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান আমরা সরকারী কাজ করছি। এ কাজটিও দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছি, পাশাপাশি এলাকাবাসির কোন ক্ষতি না হয় তার ব্যাপারেও আমাদের আন্তরিকতার কোন কমতি নাই। রেল সড়ক নির্মানের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে জনস্বার্থে আমরা কয়েকটি সড়কের ইট, খোয়া, বালু দিয়েছি। এবং এ পানি নিস্কাশনের ক্ষেত্রে উক্ত স্লুইস গেট মেরামত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সার্বিক সহযোগীতা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। লখপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আবুল হোসেনসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যগন এ ব্যাপারে সর্বদা পদস্থ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০২০২, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers