সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে জেলে আহত হওয়ার দু’দিন লোকালয়ে বাঘের গর্জন নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর হামলার প্রতিবাদে ফকিরহাটে মানববন্ধন ফকিরহাট খাদ্যগুদামে বিদায়ী ও নবাগত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা ফকিরহাটে কলেজ ছাত্র হত্যার ঘটনায় মামলা,দু’জন আটক প্রকৌশলীর উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবিতে বাগেরহাটে মানববন্ধন প্রেসক্লাব রামপালের কমিটি গঠন সভাপতি সবুর রানা সম্পাদক সুজন মজুমদার বাগেরহাটে দৈনিক গনমুক্তির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত মোংলা সুন্দরবনে গোলপাতা আহরন মৌসুম শুরু ফকিরহাটে নিখোঁজ হওয়ার একসপ্তাহ পর কলেজ ছাত্র অনিকের লাশ উদ্ধার ফকিরহাটের পিলজঙ্গের কংগ্রেস মোড়ের অদুরে ছিনতাই সংঘঠিত
বিপজ্জনক পর্যায়ে মার্কিন-চীন সম্পর্ক’

বিপজ্জনক পর্যায়ে মার্কিন-চীন সম্পর্ক’

চুলকাঠি ডেস্ক : বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক বলেছেন, ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ক বিপজ্জনকভাবে অবনতি ঘটেছে। যদি উভয় দেশ বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু না হটে ও ভালো সহাবস্থান করতে না শেখে, তাহলে তা সামরিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

হার্ভার্ডে সিনিয়র ফেলো হিসেবে যোগদানের পূর্বে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ পদে, স্টেট অ্যান্ড ট্রেজারি বিভাগে এবং দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যেভাবে চায় সেভাবে না ভেবে, বরং চীনের সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা দরকার যুক্তরাষ্ট্রের।

মঙ্গলবার পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিকস এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জোয়েলিক বলেন, দু’দেশের সম্পর্ক এখন ভাঙ্গনের দিকে রয়েছে। এটি বেশ বিপজ্জনক। জনগণকে সচেতন থাকা দরকার যে, ভুল হিসেব-নিকেশ হতে পারে এবং তাইওয়ান ও অন্যান্যদের সঙ্গে সমস্যাগুলো বিপজ্জনক জায়গায় চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, তারা এমন কিছু করবে না যা চীনকে সুবিধা দেবে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং করোনা মহামারি নিয়ে ক্রমেই বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে বেইজিং অভিযোগ করে, চীনের সামরিক মহড়া চলার সময় দেশটির নো ফ্লাই জোনে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউ-২’ স্প্যাই বিমান পাঠিয়েছে।

সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝ্যাও লিজিয়ান বলেছেন, চীন-মার্কিন খারাপ সম্পর্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ এবং এককভাবে দায়ী। ট্রাম্প্র প্রশাসন বেইজিংয়ের এই দাবি বারবার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে; যা রিপাবলিকানদের জাতীয় কনভেনশন পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপাবলিকানদের এই জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হবে।

গত সপ্তাহে সিএনবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু হতে দেব না।

নতুন বই ‘আমেরিকা ইন দ্য ওয়ার্ল্ডঃ এ স্টোরি অব ইউএস ডিপ্লোমেসি এন্ড ফরেইন পলিসি’র লেখক জোয়েলিক বলেন, চীন শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা উদারতন্ত্রে যোগ দেবে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী এমন দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের ঝামেলাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও রঙিন করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরীতা প্রায় তীব্র বলে মনে হচ্ছে, কারণ তারা প্রত্যাখানের ধারায় আছে। আমরা যেভাবে চাই সেভাবে না হয়ে বরং চীনকে বুঝতে পারলে তা সবসময় উপকারী হবে।

বৈশ্বিক বোমা নিক্ষেপ, মিত্রদের নিন্দা এবং সহজ সমাধান না খুঁজে বরং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ এবং উদাহরণ তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়া। তিনি বলেন, হংকংয়ের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে যারা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত এবং নতুন নিরাপত্তা আইনের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের জন্য ভিসা অনুমোদন দিতে পারে। যা ব্রিটেন করেছে।

জোয়েলিক বলেন, সেখানকার কিছু মানুষকে আমেরিকা আসার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

এটি মুক্ত সমাজ এবং কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পার্থক্য দেখানোর উপায়। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের লেনদেন ও ব্যক্তিত্ব-ভিত্তিক নীতিমালাগুলো অকার্যকর, অফলপ্রসূ এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যা করেছেন তার উল্টো পথে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় চীন বাণিজ্য বিধি আরও ভালোভাবে অনুসরণ করছে। কিন্তু মেধাসত্ত্বের নিরাপত্তা এবং জোরপূর্বক প্রযুক্তি স্থানান্তরের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য বিষয়ক এই মধ্যস্থতাকারী।

তিনি বলেন, চীনের মেধাসত্ত্ব আদালতগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি কোম্পানিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু অপর্যাপ্ত জরিমানায় এর কার্যক্রম কমে গেছে। একটি কার্যকর পন্থা হলো, তাদের ব্যবহারে সন্তুষ্ট নয়; এমন মিত্র এবং স্থানীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করা। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জোয়েলিকের সুপারিশকৃত পন্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০২০২১, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers