মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ

আমাদের চুলকাঠি ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন chulkati24@gmail.com এই ই-মেইলে ।

শিরোনাম :
দুর্যোগ প্রবণ বাগেরহাট সদর হবে মডেল উপজেলা: সরদার নাসির

দুর্যোগ প্রবণ বাগেরহাট সদর হবে মডেল উপজেলা: সরদার নাসির

চুলকাঠি ডেস্ক  : সফালতার সাথে বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সরদার নাসির উদ্দিন। এখন আছেন জেলা যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্বে। একই সাথে দুর্যোগ প্রবণ বাগেরহাট সদর উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করছেন তিনি। উন্নয়নের স্বপ্নচারী সরদার নাসির উদ্দিন হলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। সংগত কারণেই দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের প্রতি রয়েছে সরদার নাসির উদ্দিনের দায়বদ্ধতা। সেই দায়বদ্ধতা থেকে করোনা মহামারীর মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে আছেন জনগণের পাশে। সরকারি নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি উপজেলাবাসীকে স্বস্তি আর শান্তিতে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের এই নেতা। তার বর্তমান কার্যক্রম আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন স্বাধীন আলোর সাথে।

স্বাধীন আলো: শুরুতে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের সময় দেয়ার জন্য। একই সাথে জানতে চাইছি করোনা মহামারীর মধ্যে আপনার এলাকার মানুষ কেমন আছেন?

সরদার নাসির উদ্দিন: আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যেখানে সারাবিশ্বের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে আছে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সুস্থ থাকাটাই মুখ্য হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে সুস্থ রাখার। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে আমরা তৎপর আছি।

স্বাধীন আলো: এলাকায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

সরদার নাসির উদ্দিন: বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যতম সদস্য। করোনা দুর্যোগের শুরুতে তার নির্দেশনা নিয়ে উপজেলার সব স্কুল কলেজ ও জনবহুল এলাকায় আমরা সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে লিফলেট বিরতণ করি। এসময় সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করি। পরে কর্মহীনদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল, তেল, আলু পিয়াজসহ ত্রাণ বিতারণ করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসুতি মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়। এখনো সেই কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকসহ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরতদের নিরাপত্তার জন্য পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগোল্ভোস দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম করে রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্চাসেবক টিম গঠন করে মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনা আক্রান্তদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভ্রাম্যমাণ হাটসহ একাধিক এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রেখে হাট বসানো হয়েছে। যা নিয়মিত মনিটরিং করা হয়।

স্বাধীন আলো: কী লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন এবং কী কাজ করছেন?

সরদার নাসির উদ্দিন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেছি। ছাত্র অবস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করি। এক পর্যায়ে মনে হয়েছে জনপ্রতিনিধি হলে মানুষের সেবা দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব। সেই আকাক্সক্ষা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘গ্রামে মিলবে শহরের সেবা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছি।

স্বাধীন আলো: উপজেলা পরিষদ থেকে জনস্বার্থে আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

সরদার নাসির উদ্দিন: এর আগে আমি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। তখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ইচ্ছা থাকলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এবার দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান হয়েছি। তাই পরিকল্পনা অনেক। এরই মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সহযোগিতা নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদকে আধুনিক ও জনবান্ধব পরিষদ হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। যাতে উপজেলা পরিষদে এসে কেউ সেবা বঞ্চিত না হয়। গোটা উপজেলা এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও গুজবমুক্ত করতে শিক্ষক, ইমাম ও পুরোহিতদের নিয়ে কাজ করছি। তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে আমার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বাধীন আলো: বাগেরহাটে মাদকাসক্ত বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

সরদার নাসির উদ্দিন: একটি পরিবারে একজন মাদকসেবী থাকলে সেই পরিবারটি শেষ হয়ে যায়। অবৈধ মাদক দ্রব্য বর্তমানে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। তাই সদর উপজেলায় মাদকমুক্ত করতে জনসচেতনতার পাশাপাশি মাদকের কুফল বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি।

স্বাধীন আলো: সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিষদ কী ভূমিকা পালন করছে?

সরদার নাসির উদ্দিন: বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দেন। এজন্য তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার পরিমাণ পর্যাক্রমে বাড়াচ্ছেন। এসব কার্ড যাতে সুন্দরভাবে ব্যবহার হয়, সেজন্য আমরা কাজ করি। এসব ভাতা বিতরণে কোন ধরনের অনিময় আমরা হতে দিই না। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং করি।

স্বাধীন আলো: সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে উপজেলা পরিষদের ভূমিকা কী?

সরদার নাসির উদ্দিন: বাগেরগাট সদর উপজেলার ৬২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২৬টি মাদ্রাসা আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ঠেকাতে শিক্ষাবৃত্তির সঠিক ব্যবহার যাতে হয় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে বাইসাইকেল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

স্বাধীন আলো: বাগেরহাটের বেকার ও দলিত শ্রেণির মানুষের জন্য আপনার পরিষদ কী করছে?

সরদার নাসির উদ্দিন: বেকারত্ব একটি অভিশাপ। বেকারত্ব থেকে হতাশা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে হতাশাগ্রস্ত মেধাবী তরুণ নেশার জগতে প্রবেশ করতে পারে। এমনটি যাতে না ঘটে এজন্য আমাদের বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আছে। এর মাধ্যমে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এজন্য তারা সহজ শর্তে সরকারিভাবে ঋণও পান। দলিত নারী-পুরুষদের জন্যও আমাদের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।

স্বাধীন আলো: উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ার পর কী কী কাজ করেছেন?

সরদার নাসির উদ্দিন: উপকুলীয় জেলা হিসাবে বাগেরহাটে প্রাকৃতিক দুর্য়োগ বেশি হয়। প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় আম্পনের তান্ডবের পর বেড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এজন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এলাকা ভিত্তিক বেড়িবাধ নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ফসল উৎপাদনে সরকারের দেয়া প্রণোদনা সঠিক তালিকা করে বিতারণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের জনসেবায় ১৭টি দফতর কাজ করে। এসব দফতরে গিয়ে যাতে জনগণ ভোগান্তির শিকার না হন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশি কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এডিবির অর্থায়নে এই উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। আমি একটি পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়তে চাই। এজন্য সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সাথে আমার একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা সবাই মিলে বাগেরহাট সদর উপজেলাকে মডেল উপজেলা বানাবো। এজন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।

স্বাধীন আলো: সর্বশেষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্বাধীন আলোকে নিয়ে কিছু বলুন।

সরদার নাসির উদ্দিন: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনলাইন পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। স্বাধীন আলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করে উন্নয়নের মহাসড়কে থাকা বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে অবদান রাখছে। আমি আশা করবো স্বাধীন আলো অপ-সাংবাদিকতাকে প্রশ্রয় দেবে না। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

স্বাধীন আলো: স্বাধীন আলোর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০২০২, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers