সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০২:০৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ

আমাদের চুলকাঠি ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন chulkati24@gmail.com এই ই-মেইলে ।

শিরোনাম :
বাংলাদেশের সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে নগদ ভাতা দেয়ার তাগিদ ইউএনডিপির

বাংলাদেশের সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে নগদ ভাতা দেয়ার তাগিদ ইউএনডিপির

চুলকাঠি ডেস্ক : করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বাংলাদেশের অবস্থাও নাজুক। মানুষ কাজ হারাচ্ছে। ঘর ভাড়া আর আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে না পেরে গ্রামের দিকে ছুটছে অনেকে। আবার বাধ্য হয়েই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন অনেক নিম্নআয়ের মানুষ। তাতে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মানুষকে নগদ সহায়তা দেয়া জরুরি বলে মত দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষকে প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫ ডলার নগদ ভাতা দেয়া জরুরি। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ২১০০ টাকা।শুধু নগদ অর্থ নয়, পাশাপাশি মানুষের চাকুরি বাঁচানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে সহায়তা বাড়ানো, প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টেম্পরারি বেসিক ইনকাম: প্রোটেক্টিং পুওর এ্যান্ড ভালনারেবল পিপল ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেছে ইউএনডিপি। সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে বিশ্বের ৬০টি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে গরিব ও ঝুঁকিতে থাকা বহু মানুষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের ৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি গরীব মানুষের নগদ সহায়তা দরকার; যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশের কিছুটা বেশি। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতি মাসে ২৫ ডলার করে ভাতা দিলে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। করোনার কারণে বিশাল জনগোষ্ঠীর উপার্জনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ১৩২টি উন্নয়নশীল দেশের ২৭০ কোটি মানুষের নগদ সহায়তা দরকার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব মানুষকে তাদের মাসের মূল আয়ের বন্দোবস্ত করতে হবে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। উল্লেখ্য, করোনা সঙ্কটের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকার ৫০ লাখ মানুষকে আড়াই হাজার টাকা দেয়ার একটি কর্মসূচি পরিচালিত করছে। তবে তা ছিলো এককালীন। কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের পর দরিদ্র মানুষের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য দেশের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পরামর্শ দেয়া হয়। গত মে মাসে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইজিডি)এক যৌথ গবেষণা শেষে বলেছিলো, সংকট নিরসনে গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকার নগদ সহায়তা দেয়া দরকার। এর মধ্যে গ্রামের মানুষকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং শহরের মানুষকে ১ হাজার ৭৪৫ টাকা করে দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ব্যাপারে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, করোনা সংকটের শুরুর দিকে ত্রাণ হিসেবে নগদ সহায়তা দেয়া হলেও সেই তৎপরতা এখন কমে গেছে। অথচ এর প্রয়োজন রয়েই গেছে।ইউএনডিপির প্রতিবেদনের বিষয়ে সংস্থাটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোঃ মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জীবনধারণে প্রতি মাসে ন্যূনতম ব্যয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের জন্য প্রায় ২৫ ডলারের সহায়তার কথা বলা হয়েছে।ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা দেয়ার এ ব্যবস্থা বেশ কার্যকর এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, এখন মহামারি মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এখন প্রতি সপ্তাহে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ সংক্রমণ হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এসব দেশের প্রতি ১০ জন শ্রমিকের সাত জনই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। তাদের ঘরে বসে আয় করার উপায় নেই ইউএনডিপির প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও বলেন, আমাদের এখানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষ অনেক বেশি। তারা দিন আনে দিন খায়। সন্দেহ নেই তাদের সহায়তা দরকার। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সহায়তা করছি। আর এটা চলছে। ইউএনডিপির এ্যাডমিনিস্ট্রেটর আচিম স্টেনার বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার এ ধরনের সহায়তা দিলে মানুষের জন্য তা উপকারে আসবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি গতি পাবে। করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ কমতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০২০২, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers