মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ

আমাদের চুলকাঠি ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন chulkati24@gmail.com এই ই-মেইলে ।

শিরোনাম :
ইরানে বিস্ফোরণ: পরমাণুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘রহস্যময়’ হামলার পেছনে কারা?

ইরানে বিস্ফোরণ: পরমাণুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘রহস্যময়’ হামলার পেছনে কারা?

সম্প্রতি ইরানের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব স্থাপনার একটি নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র। এসব ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা? এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিবিসির পার্সিয়ান বিভাগের সাংবাদিক জিয়ার গোল।

জুন মাসের ৩০ তারিখ মধ্যরাতের পর পরই আমার ইনবক্সে একটি ইমেইল এলো। অপরিচিত একটি গ্রুপ থেকে এটি পাঠানো হয়েছে যারা নিজেদের নাম “হোমল্যান্ড চিতাস” বলে দাবি করছে।গ্রুপটি বলছে যে তারা ঘণ্টা দুয়েক আগে স্থানীয় সময় রাত দু’টোয় ইরানের বড় একটি পরমাণু স্থাপনা নাতাঞ্জে আক্রমণ করেছে।ইমেইলে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে একটি স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে – যা ইরান সরকার গোপন করে রাখতে সক্ষম হবে না।গ্রুপটি দাবি করছে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ভিন্নমতাবলম্বী সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়েছে।তারা বলছে এর আগেও তারা অসংখ্য হামলার পেছনে ছিল কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ সবসময় সেগুলো জনগণের কাছে গোপন রেখেছে।সর্বশেষ হামলার খবরটি যাচাই করে দেখতে আমি ইরানের বিভিন্ন বার্তা সংস্থা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্ভরশীল উৎসগুলোতে এর সন্ধান করি। কিন্তু কোথাও আমি এধরনের হামলার কোনো উল্লেখ দেখিনি।এর কয়েক ঘণ্টা পরে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা ঘোষণা করে যে নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে একটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এটা যে নাশকতামূলক কাজ’ এমন অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করে।পরের দিন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ঘোষণা করে যে নাতাঞ্জে কী কারণে “ঘটনাটি” ঘটেছে সেটা তারা জানে, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে আপাতত তারা সেটা প্রকাশ করছে

না।যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতেও দেখা যায় যে রাত ২টা ০৬ মিনিটে নাতাঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।এর ফলে সেখানে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সাথে ইমেইলে দেওয়া বিস্তারিত বিবরণের মিল পাওয়া যায়।গ্রুপটির ইমেইল ‍খুব সতর্কভাবে লেখা হয়েছে। এর সাথে কৌশলগত স্থাপনায় হামলার বিষয়ে প্রচারণাধর্মী একটি ভিডিও-ও যুক্ত করা হয়েছে। এই ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে যে ইরানের ভেতরেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।এধরনের বিবৃতি ও ভিডিও তৈরি করতে কয়েক দিন না হলেও কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। যারাই এটা তৈরি করুক না কেন, তারা নাতাঞ্জে বিস্ফোরণের কথা আগে থেকেই জানতো। নাতাঞ্জের হামলাটি ‘নাশকতামূলক’- এই তত্ত্বকেই এসব সমর্থন করে।আবার এও হতে পারে যে হামলাকারীর বিষয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করতে এই ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে। হতে পারে ইরানের সরকারবিরোধী বিদেশি কোন গোয়েন্দা শক্তি হয়তো হামলাটি চালিয়েছে।অনেকেই মনে করেন হ্যাকারদের এই গ্রুপটি ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড সাইবার আর্মির একটি অংশ।এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে হোমল্যান্ড চিতাস গ্রুপের জন্ম হয়েছে পার্সিয়ান ক্যাটকে মোকাবেলা করার জন্য।মে মাসের শেষের দিকে, ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল বলেছে যে তারা তাদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর করা একটি বড় ধরনের সাইবার হামলা প্রতিহত করেছে।তাদের বিশ্বাস ওই হামলাটি ইরান থেকেই করা হয়েছিল।এর কয়েক দিন পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌ বন্দর শহিদ রাজায়ের ওপর সাইবার হামলা চালানো হয়।ইরানের মোট সামুদ্রিক আমদানি রপ্তানির ৫০ শতাংশেরও বেশি করা হয় এই বন্দর দিয়ে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০২০২, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers